শিরোনাম :
প্রকৃত ইসলামই পারে মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে : সুনামগঞ্জের মঈনপুর থেকে মাদক ব্যবসায়ি আটক অকটেন ভাগাভাগি থেকে অগ্নিকাণ্ড! বিড়ির আগুনে কুমিল্লার প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই, দগ্ধ ৩ কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি মজবুত হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী নির্যাতিতদের ডাটাবেজ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জরুরি : ড. আসিফ মিজান পঞ্চগড়ে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা পেল ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পঞ্চগড়ে নদ নদী গবেষণায় লেখক কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে তেঁতুলিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড উদ্যোগে আন্ত:কলেজ ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন পঞ্চগড়ে হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে আটক পিতাপুত্র 
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

এত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা, এখনো কি তৈলের কারিশমা শেষ হবে না?

Reporter Name / ২৪১ Time View
Update : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪

সৈয়দ মাহমুদুল কবির : ঘটনাটা এরশাদ সরকার আমলের। আমি সবেমাত্র লেখাপড়া শেষ করে আমাদের গ্রামের একটি এতিমখানার সুপার হিসেবে যোগদান করেছি। নতুন প্রতিষ্ঠান। আমাকেই সবকিছু গোছাতে হবে। আন্তর্জাতিক ইসলামি ত্রাণ সংস্থা অর্থায়নে পরিচালিত হতো। ছাত্রদের খাট বানানো আগেই হয়েছিল। লেপ তোষক, খাবারের প্লেট, রান্নার সামগ্রী ইত্যাদি জিনিসগুলো নিয়ে আমি প্রতিষ্ঠানে হাজির হলাম! শুরু হলো আমার নতুন চাকরি। মাস শেষে চেক আনার জন্য ঢাকার অফিসে আসতে হতো প্রতি মাসে! ঢাকা এসে আমার সেক্রেটারি সাহেবের বাসায় অবস্থান করতাম। সেক্রেটারি ছিলেন আমার সম্মানিত চাচা। তিনি বছরের কাছাকাছি হলো ইন্তেকাল করেছেন! আল্লাহ উনাকে তার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে উনার কবরকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাগিচা বানিয়ে দিন। আমিন! চাচা আমাকে বললেন, এতিমখানার রেজিস্ট্রশন করতে হবে। সংবিধানও তৈরি করা হয়েছে। তুই সমাজকল্যাণ অফিসে যেয়ে এটা জমা দিয়ে আয়। আমি যথারীতি অফিসে গেলাম। ওখানের এক অফিস সহকারীর সাথে দেখা। অফিস সহকারী আমাকে তার খাস কামরায় ডেকে নিলেন। ভদ্রলোক সকালের নাস্তা খেতে খেতে আমাকে অফিসের নিয়মটা বুঝিয়ে দিলেন। আমাকে বললেন, ৩শ’ টাকা লাগবে। তখন ৩শ’ টাকা অনেক! আমার বেতনই ছিল ৭শ’ টাকা! এটা হাদিয়া! এই হাদিয়া প্রতিটি অফিসার ভাগবাটোয়ারা করে নিবে! সেই সাথে আপনার কাজটাও হয়ে যাবে! আমি তখনো এতোশত নিয়মকানুন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলাম না! যাই হোক, তাকে টাকাটা দেয়ার পর ঘণ্টাখানেকের ভেতর আমার কাজ হয়ে গেল। সংবিধানে এক অফিসার একটি মেজর ভুল আবিষ্কার করলেন! সেজন্য আমাকে আন্ডারটেকেন দিতে হলো, পরবর্তী কারেকশান করে দেওয়ার। চিঠি নিয়ে চলে এলাম। পরবর্তীতে অল্প কিছুদিন পর আমার রেজিস্ট্রশন হয়ে গেল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তৈল গল্পটা পড়েছিলাম। সেখানে একটা কথা ছিল এমন: তৈল জায়গা মতো এক ফোঁটা ঢালিলে যে কাজ হয়, অজায়গায় কলস কলস ঢালিলে সে কাজ হয় না! তার সুফল হাতেনাতে পেলাম! আজ এতো বছর পর আবার নতুন করে উপলব্ধি করতে হচ্ছে। এখন সরকারি কর্মচারীরা তৈলের মহাসংকট আছে। তৈল ঢালিবারও লোক পাওয়া যাচ্ছে না! তৈল নেওয়ারও লোক পাওয়া যাচ্ছে না! ফলে প্রতিটি কাজেই শ্লথগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে! এতো এতো তাজা রক্তের বিনিময়ে নতুন স্বাধীনতা পেলাম! এখনও কী তৈলের কারিশমা বিলুপ্ত হবে না??


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক