শিরোনাম :
লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের মৃত্যু  সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে ২১শে পদকপ্রাপ্ত বাউল শাহ আব্দুল করিম এর লোক উৎসব মেহেরপুরে গাংনীতে তেল পাম্পে হট্টগোল, মোবাইল ছিনতাই মাসে ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকার : চিফ হুইপ ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ করছে রাশিয়া শিবগঞ্জে হেরোইন-ইয়াবা উদ্ধার কুমিল্লা কালিরবাজারে বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন কুমিল্লায় নৃশংসভাবে শিশু রিফাতকে গলা কেটে হত্যা পলাতক তিন আসামি গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হটাৎ শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়িসহ কৃষিক্ষেত; ছুটে গেলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কুমিল্লার টাউনহল মাঠের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় নৃশংসভাবে শিশু রিফাতকে গলা কেটে হত্যা পলাতক তিন আসামি গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার, বার পাড়া ইউনিয়নের লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর বৈরাগী মুড়া পাহাড়ের উপর বাঁশ ঝাড়ের ভিতর ৯ বছরের শিশু রিফাতকে নিশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।

স্বরেজমিন ঘুরে, মামলার  বিবরনে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ি, ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মোঃ মমিন আলীর ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন তার ছেলে মোহাম্মদ রিফাত ৯ বছরের শিশু স্থানীয় শলকা মুড়ি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। অন্যান্য দিনের মতো ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে আটটায় স্কুলে যায় রিফাত, স্কুল থেকে দুপুরে বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া শেষে বেলা প্রায় দুইটার পর খেলাধুলার জন্য বাড়ির বাহির হয়ে যায়। রিফাত বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়িতে না আসায় রিফাতের বাবা জসীমউদ্দীন তার স্ত্রী সহ আশপাশের বাড়ি পাড়া মহল্লা সহ খোঁজাখুজি করে সন্ধ্যায় এলাকায় তার শিশু রিফাত নিখোঁজের মাইকিং করেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২ জানুয়ারি বরুড়া থানায় নিখোঁজের সাধারণ একটি ডায়েরী দায়ের করেন জসিম। এরই মাঝে খোঁজাখুজি অব্যাহত রেখেছে । ৩ জানুয়ারি জসিম তার শ্রী আত্মীয়-স্বজনরা পাহাড়ে এলাকায় খোঁজাখুঁজি করা অবস্থায়, সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বড় ধর্মপুর লালমাই পাহাড়ের বৈরাগী মুরা বাঁশ ঝরের ভিতর জসিমের ছেলে রিফাতের রক্তাক্ত গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের গ্রামের লোকজন জড়ো হয় পরে। স্থানীয় লোকজন, সদর দক্ষিণ থানায় থানা পুলিশ কে জানালে পুলিশ এসে নিহত রিফাতের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ৩ জানুয়ারি নিহত রিফাতের বাবা জসিম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারটি দায়ের করার সময় এলাকার দুষ্কৃতকারী মোহাম্মদ আলী ওরফে আইয়ুব আলী, মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ জামাল হোসেনের নাম এজাহারে, অন্তর্ভুক্তের কথা জসিম জানালে থানার এসআই জনি কান্তি দে, একটি প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের নাম উল্লেখ করেননি। এদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে ৩০২, ৩০১,৩৪ ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় রিফাত হত্যা মামলার সাথে জড়িত এরা প্রায় সময় রিফাতকে ডেকে নিয়ে যেত এবং স্থানীয় দোকান থেকে খাবারের বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দিত, কি ছিল তাদের মনের উদ্দেশ্য গ্রামের লোকজন কেউ জানে না। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিরা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী   গোলাম সারোয়ার ও সাবেক অর্থমন্ত্রী, লোটাস কামালের আত্মীয় বলে জানা যায়। যার কারণে থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার ও অ্যাকশনে যেতে পারে নাই দীর্ঘদিন। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বাদী একাধিকবার বললেও অজ্ঞাত কারণে তাদের গ্রেফতার করেনি মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের  তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এস আই জনি কান্তি দে , বলেন এদেরকে গ্রেপ্তার করলে আমার চাকরি থাকবে না। এমনি করে পার করে দিয়েছেন দীর্ঘ ১৫ টি মাস। কিন্তু জনি কান্তি দে এই ১৫ মাসে একাধিকবার আসামীর বাড়িতে গিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। এদিকে আসামিদের গ্রেফতার কিংবা থানা এনে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের  ব্যবস্থা করেননি এতদিন। গত ২৬ শে মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে জসিম, স্থানীয় লোকজন সহ অভিযুক্ত আসামি রৌশন আলীর ছেলে আইয়ুব আলী, মোঃ আলী,নেওয়াজ এর ছেলে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোঃ জামাল হোসেন এই তিন অভিযুক্তকে এলাকাবাসী আটক করে থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে তাদেরকে গ্রেফতার করেন। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দেশীয় দা দিয়ে রিফাতকে জবাই করা হয়েছে সে দেশীয় অস্ত্র তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ২৬ শে মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। তবে তাদেরকে কোন মামলা দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জনি কান্তি দে, তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে নারাজ। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল মোস্তফা জানান, এখন কোন মন্তব্য করব না। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতসন্দেহে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অপারগতা পোষণ করেন থানার ওসি। রিফাতের বাবা মোঃ জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান আমি একজন দিনমজুর অশিক্ষিত আমার শিশু রিফাতকে নূশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার জাতির কাছে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি ‌ জানাই। আমার ছেলেকে এই দুষ্কৃতিকারীরা নূশংসভাবে জবাই করে হত্যা করেছে, অপরাধীরা যেন শাস্তি পায় এটাই আমার কাম্য। এদিকে কুমিল্লার সুশীল সমাজ  মন্তব্য করে বলেন, কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। ২০২৪ সালে নতুন একটি বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি। পুলিশ আগের ধারায় ফিরে গেছে। নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। তার একটি প্রমাণ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় রিফাত হত্যাকাণ্ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক