মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বড়ঘাট আবাসিক এলাকায় এক সংখ্যালঘু দিনমজুর পরিবারের বসতভিটায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী হয় দিবাগত-রাত ১২ টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সুধাংশু দাস গত প্রায় ২৫ বছর আগে যৌথভাবে এই ৪০ হাত দৈর্ঘ্যের ঘর নির্মাণ করেন। ঘর প্রায় নতুনের মতোই ছিল। কারণ ওই দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাদশী তিথি ছিল।
একটি সূত্র জানায়, প্রতিবেশী আব্দুর রহিমের সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে সামান্য মনোমালিন্য ছিল। এ বিষয়ে ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে কথা কাটাকাটির এক পযার্য়ে আব্দুর রহিম গংরা ভূমির রেকর্ডীয় মালিক সুধাংশু দাসের বাঁশের বেড়া উপড়ে ফেলে ট্রাক্টর দিয়ে জোরপূর্বক মাটি ফেলে কিছু অংশ দখলে নেয়। জানা গেছে, সুধাংশু দাসের মোট রেকর্ডীয় জমির পরিমাণ ছিল ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ ভূমির মধ্যে বসতঘর ও দোকান করা হয়। অবশিষ্ট ২৩ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
ওইদিন অগ্নিকাণ্ডে একটি টিভি, একটি শোকেস, লেপ-তোষক, কাপড়-চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল, খাঁচায় থাকা হাঁস-মুরগি, নগদ দশ হাজার টাকা, ঘরের বেড়া, চালের টিন ও কাঠ, দুইজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর বইপত্র ও স্কুল ড্রেস, ভোটার আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ মিয়া বলেন, রাত প্রায় ১২ টার সময় চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি সুধাংশু দাসের বসতঘরে আগুন। পরে আমরা কয়েকজন মিলে আগুন নিবাই।
স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্ব আব্দুর রফিক বলেন, আগুন দেখে তড়িগড়ি করে নিবাই। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন অগ্নিকাণ্ডে আমরা বিস্মিত। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার।
বাসিন্দা রাবিয়া বেগম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। আমাদের কাছে ফায়ার সার্ভিসের ফোন নাম্বার না থাকায় যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে নিজেরাই আগুন নিবাতে সক্ষম হই। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলা রাণী দাস বলেন, আমাদের এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা সময়মত আগুন নিবাতে না পারলে সারা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যেত। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত দাস বলেন,এই তাৎক্ষণিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সুধাংশু দাস বলেন, বসতঘরে থাকা দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছ। বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই। তিনি আরও জানান, ঘটনার কয়েক দিন আগে জমির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
শিক্ষার্থী দীপু বাবু ও সমীরণ দাস বলেন, আমাদের দোকানের সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, আমরা দুই ভাইয়ের বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস পুড়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন, বড়ঘাট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।