মো, সোহরাব আলি, তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজলদিঘী ইউনিয়নের আওয়ামী ফ্যাসিবাদীর কবলে পড়ে একটি পরিবার নিঃস্ব হতে চলেছে। জানা যায় গত ২০০৮ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সাল থেকে স্থানীয় আওয়ামী ভূমিদস্যু, দখলবাজ এবং চিহ্নিত স্থানীয় সন্ত্রাসী নামে খ্যাত শহিদুল- ময়নুল গংদের চরম নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪ নং কামাত কাজল দিঘি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক। জিয়াউর রহমান সরকারের সময় থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় ১৯৮০ সালে স্থানীয় সরকারের জন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিএনপি রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার জেড়ে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবু বকর সিদ্দিকীর উপর আওয়ামী ভূমিদস্যু তথা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তার উত্তরাধিকার সূত্রে ৬০ বছরের ভোগ দখলকৃত এবং নিখুঁত জমির দলিল থাকা সত্ত্বেও ২০১৫ সালে প্রায় এক একর জমি দখলের চেষ্টা ও পরিবারের উপর হামলা চালায়। উক্ত গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী নেতা, ভূমিদস্যু - শহিদুল , মইনুল, মস্তানুর, মামুনুর রশিদ, জয়নাল গং যার জে. এল নং ৪১, খতিয়ান নং ২৭০ , এস এ, ১০৫১ ১০৪৮, ১০৪৭ মোট তিন দাগে ৯৫ শতক জমি রয়েছে। চলমান ডিপি খতিয়ান নং ৩৩৪ ! ২০১৬ সালের মার্চ মাসের ১২ তারিখে শহিদুল- ময়নুল গঙ্গের নেতৃত্বে জমি দখলের চেষ্টা চালায় শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে। এর মধ্যে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের নেতা যার নাম জয়নাল।সেই জয়নালের ভাই মিরপুর পল্লবী থানার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সে তার যুবগীগ ভাইয়ের দাপটে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সক্ষমতা থাকায় আইন আদালত থানা সবকিছু নিজের মনে করতেন। কিন্তু ততসময়ে জমির মুল মালিক আবু বকর সিদ্দিক বিবাদীদের জোরপূর্বক জমি দখল এবং হামলার জন্য ন্যায় বিচার চেয়ে থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং ততকালীন থানা পুলিশ তার কোন মামলা নেননি। নিরুপায় হয়ে আবুবক্কর নিজেকে নিজের পরিবারের সন্তানের গুরুতর আহত অবস্থায় ন্যায়বিচার পাবার জন্য উঠে ফৌজদারি মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত গ্রহণ করে। মামলা আসামি ছিলেন, ময়নুল, শহিদুল,জয়নাল,মস্তানুর, মামুন সহ অনেকে গংরা।বিজ্ঞ জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পঞ্চগড়ে মামলা করার পর শুরু হয় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে হুমকি-ধমকি সহ নানামুখী নির্যাতন। সে সময় কোনভাবে রক্ষা পেলেও ২০১৮ সালের শেষ দিকে পঞ্চগড় উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের ইশারায় পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা ও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা । সে সময় আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার পরিবারের ছোট ছেলে এবং বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে নিজ জমি রক্ষার্থে এবং নিজেদের বাঁচানোর জন্য ২০১৯ সালে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এম আর ২৩০/ ১৯ নং মামলা দায়ের করেন। আবারে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী ভূমিদস্যু শহিদুল -ময়নুল গং আরো হিংস্র রূপ ধারণ করে। যার ফলস্বরূপ ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে পুনরায় জমি দখল ও হামলা করার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কোনভাবে আবু বকর সিদ্দিক ও তার পরিবার বেঁচে যায়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে স্থানীয় ভূমিদস্য ,দখল বাজ আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ময়নুল গং কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দেয়। তবে গোপনে তাদের একটিভ কার্যক্রম চালিয়ে যায়। আবারো তারা বর্তমানে সরাসরি বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত।সর্বোপরি আবু বকর সিদ্দিক নিজ ভোগ দখলকৃত জমির সকল ধরনের কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪/৪৫ধারা মামলা নং ২১৪ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট তার পক্ষে ডিগ্রি প্রদান করেন। ১৩.১২.২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতের রায় বিদ্যা আঙ্গুলে দেখিয়ে আবারো অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।এবং ফ্যাসিবাদের দোসর ময়নুল শহিদুল , মস্তানুর গং গত মাসে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আদালতে রায়কে উপেক্ষা করে অনধিকার চর্চা করে দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে জমি দখলের চেষ্টা করলে এতে অতর্কিত হামলায় অস্ত্রে আঘাতে আবু বক্কর সিদ্দিক এর ছোট পুত্র রাসেলর মাথায় গুরুতর আহত হলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য তাকে পঞ্চগড় আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ব্যাপারে আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে পঞ্চগড় থানায় একটি মামলা করেন।এই ঘটনায় এলাকাবাসী ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নেতা বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থার জোর দাবি জানান।