রোমান আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে জানুয়ারি মাস এলেই পাঠদান কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। নিয়মিত ক্লাস নেন না শিক্ষকরা। খেলাধুলা করেই ব্যস্ত সময় পার করে শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষকরা অযুহাত দেখান ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।
মাসব্যাপী পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
কিছু প্রতিষ্ঠানে দুই-তিনটা ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি চলে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। তবে কিছু কিছু বিদ্যালয়ে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলে এমন কার্যক্রম। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খোজ নিয়ে জানা যায়, জানুয়ারি মাসের শুরুতে বই পেলেও নিয়মিত ক্লাস হয়নি। কয়েকটি ক্লাস হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয় খেলাধুলা করার। কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কিছু প্রতিষ্ঠানে একযোগে শেষ করেছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। তবে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও কিছু বিদ্যালয়ে এখনো চলছে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম।
আদ্রা ইউনিয়নের তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিন্তি আক্তার বলেন, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন ৬টা ক্লাস হয়েছিলো। তারপর থেকে দুই থেকে তিনটা ক্লাস হয় পাশাপাশি খেলাধুলা করা হয়। আজ আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হয়তো এরপর থেকে নিয়মিত ক্লাস হবে।
কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে। তবে এই সময়টা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার সময়। এই সময়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। সারাবছর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। তাই এই সময়টা একটু খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান ভূইয়া বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ক্লাসেরই অংশ। তবে প্রস্তুতিও নিবে, ক্লাসও নিতে হবে। সরকারের নির্দেশনা আছে ৩১জানুয়ারি মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এর সাথে শ্রেণী কার্যক্রমও চালাতে হবে শুধু খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হবে না। যারা শুধু এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে তাদেরকে সতর্ক করা হবে। আমরা আরও সতর্ক করবো যেনো শ্রেণী কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, জানুয়ারির মধ্যেই খেলাধুলা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে হবে৷ ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছি। নির্বাচনের পর থেকে যেনো ক্লাস হবে পাশাপাশি খেলাধুলার কার্যক্রম চলবে। দিনব্যাপী কার্যক্রম করা যাবে না। প্রতিটি স্কুলে পরামর্শ দেয়া হবে যেনো পরবর্তীতে খেলাধুলার কার্যক্রম গুলো স্বল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করে। যদি কেও সময় দীর্ঘায়িত করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেঝয়া হবে।