নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে হটাৎ শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে মানুষের ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হওয়া সহ কৃষি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ এর খুটি ভেঙ্গে এবং গাছপালা উপড়ে তার ছিড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ গতকাল রাত থেকে বিদ্যুৎ বিহীন হয়ে পড়েছে পুরো বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার অনেকাংশ। এমন পরিস্থিতিতে খুব সকালে দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ছুটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বস্ততায় কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে ভুক্তভোগীরা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বড় আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে এবং রাত ১২টার পর শুরু হয় তীব্র কালবৈশাখী ঝড়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সময় বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী, সাকোয়া, পাচপীর ইউনিয়ন সহ দেবীগঞ্জ উপজেলার অনেকাংশ ঘরবাড়ি সহ গাছপালা ও মরিচ, ভূট্রা, তরমুজের ক্ষেত অনেকেরই প্রায় নিশ্চিহ্ন অবস্থা।
বোদা পৌরসভার ভাসাইনগর এলাকার বাসিন্দা খসরু জানান, গতকালের ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় তাদের ঘরের টিনের চাল অসংখ্য ফুটো হয়ে জালের আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও ফলজ ও বনজ গাছ উপরে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বোদা উপজেলার শালশিরি এলাকার দরিদ্র একজন কৃষক জানান, ২০ শতক জায়গায় মরিচ গাছ লাগিয়েছেন আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ক্ষেত থেকে মরিচ তোলা যেত। এমন সময় শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে তার পুরো মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে পথে বসে গেল।
শনিবার সকালে এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সংসদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে বহু ঘরের টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন রবিশস্য এবং শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া লিচু ও আমের মুকুলও নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপরে মানুষের হাত নেই। এটিকে মোকাবেলা করার জন্য অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সহ তালিকা করে সরকারি ভাবে সহোযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণেই এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।