শিরোনাম :
ডিসি নন, তিনি যেন জামায়াত নেতা’: সুনামগঞ্জের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে সিইসিকে নাছির চৌধুরীর চিঠি পঞ্চগড়ের আটোয়ারিতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৭ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র অভিযানে গুলিসহ বিদেশী পিস্তল জব্দ   আমতলীতে ৬৫ কেন্দ্রে ভোট গ্রহনে প্রস্তুতি সম্পন্ন নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ মহড়া  অভয়ার ৩৩ তম জন্মদিনে প্রতিবাদের ঝড় মেলান্দহে জামায়াত ইসলামীর গণমিছিলে মানুষের ঢল জামালপুর-৩ আসনে সিদ্দিকী শুভ’র গণমিছিল মপিওভুক্তিতে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : সম্মিলিত নন এমপিও ঐক্য পরিষদ আমি সার্বজনীন প্রার্থী সবার ভোট চাই : মনিরুল হক চৌধুরী 
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

ছাত্র আন্দোলনে নিহতের লাশ উত্তোলন না করার দাবীতে সংবাদ সন্মেলন 

Reporter Name / ১৫৫ Time View
Update : রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪

মোঃ আখতার হোসেন হিরন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহতদের লাশ কবরস্থান থেকে উত্তোলন না করার দাবীতে সংবাদ সন্মেলন করেছে নিহতদের পরিবার।

আজ রবিবার নিজ নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সন্মেলন এ দাবী করে করেন ইয়াহিয়ার স্ত্রী শাহানা খাতুন মাদ্রাসা ছাত্র হাফেজ সিয়াম হোসেনের বাবা আব্দুল কুদ্দুস ও কলেজ ছাত্র শিহাব হোসেনের মা শাহনাজ বেগম।

এ সময় নিহত ইয়াহিয়ার স্ত্রী শাহানা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৪ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আমার স্বামী ইয়াহিয়া পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। এই ঘটনায় আমি মামলা করতে ইচ্ছুক ছিলাম না কিছু লোক এসে আমাদের পুরো পরিবার ও সংসারের দায়িত্ব নেন তারপর তারা আমার কাছে থেকে একটা সই নেন তারপর সবার মুখে মুখে জানতে পারি তারা এই সই দিয়ে থানায় এজাহার দিয়েছে মামলার বিষয় আমি কিছুই জানি না। পরিবার আমার স্বামীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করতে দিবে না। আমরা নতুন করে আর শোক নিতে পারব না। স্বামী হারিয়ে এমনিতে আমরা দিশেহারা হয়েছি। এখন মরা মানুষকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। আরও একটি দাবি আমার স্বামী যেন শহীদের মর্যাদা পায়।

মাদ্রাসা ছাত্র হাফেজ সিয়াম হোসেনের বাবা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে থানার সামনে পুলিশের গুলিতে মারা যান। আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি ছেলের লাশ এনায়েতপুর হাসাপাতালে। ওখান থেকে লাশ নিয়ে এসে আমার ছেলের লাশ দাফন করি। কে বা কারা এ বিষয় মামলা করেছে, মামলার বাদী কে তাকেও আমরা চিনি না। আমাদের কাছে থেকে মামলার বিষয়ে কোন অনুমতি নেয় নাই। আমার ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করবে বলে পুলিশ এসে বলে গেছে। আমরা আমার ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করতে দিব না। আমরা তো মামলা করি নাই। লাশ কেন তুলবে? এ মামলার প্রত্যাহার চাই।

অন্য দিকে কলেজ শিক্ষার্থী শিহাব হোসেনের মা বলেন, আমার সন্তান শিহাব হোসেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মারা যায়। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। সেজন্য আমরা পুরো পরিবার চরম ভাবে কষ্ট পাচ্ছি। এর জন্য মামলা দিয়ে কোন নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি আমরা করতে চাই না। কে মামলা দিয়েছে তাঁকে আমরা চিনি না। আমরা কাউকে মামলা দেওয়ার অনুমতি দেইনি। আমি তো মামলা করি নাই। তাই মামলা চালানোর কোন প্রশ্নই আসে না। আমি চাই এই মামলা প্রত্যাহার করা হোক। পুলিশ যেন এই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। অহেতুক নিরাপরাধ লোকদের আসামী করে শহীদ সন্তানের আত্মাকে কষ্ট দিতে চাই না, আর আমিও পাপের ভাগিদার হতে চাই না। মৃত দেহ যেন কাঁটা-ছেঁড়া না করা হয়। এই মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়। আর যারা উদ্দেশ্য মূলকভাবে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য আমার সন্তানের লাশকে ব্যবহার করে ব্যবসা করতে চায়, নিরাপরাধ ব্যক্তিদের নামে মামলা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমি এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এই সরকারের প্রধান উপদেষ্ঠা, আইন উপদেষ্ঠ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্ঠা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এর সচিব, ডিসি সাহেব, এসপি সাহেব, বিজ্ঞ বিচারক, ইউএনও সাহেব ও এনায়েতপুর থানার ওসি সাহেবের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি। আমার বা আমার পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে আমার শহীদ সন্তানের মৃত্যুকে নিয়ে মামলার মাধ্যমে যেন নিরাপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করা হয়। এটা এখন আমার আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একে তো আমি সন্তার হারিয়েছি,তার উপর আমার এলাকার, নিরাপরাধ লোকদের এই মামলার মাধ্যমে আমার শত্রুতে পরিণত করেছে, আর এর ফায়দা লুটছে কিছু সুবিধাভোগী লোকজন। সন্তান শহীদ হয়েছে,তাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। আমার এ ক্ষতি অপূরণীয়, যেন এ বিষয়লক্ষ্য রাখেন। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা। তাদের প্রতি যেন যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেখানো হয়। এবং আমাদের পরিবারের চলার মত ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে তার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। সংবাদ সন্মেলন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক