রোমান আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহে কর্মস্থল ফাকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেলান্দহ সদর ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মিনালের বিরুদ্ধে। এতে ব্যহত হচ্ছে মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম। বই পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
কোনো মাসে আসেন দু-দিন, কোন মাসে তিনদিন, কোনো মাসে তার দেখায় মেলে না মাদ্রাসায়। তবে মাস শেষে বেতন তোলেন নিয়মিত। এমন অভিযোগই পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০১২সালের জুলাইয়ে মো. মিনাল সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে যোগদান করে মাদ্রাসাটিতে। যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে আসেন না তিনি। যখন আসে তখন না আসা দিন গুলির স্বাক্ষর করে রাখেন। নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মো. মিনাল মাদ্রাসায় আসে না। কোন শিক্ষার্থী তাকে চেনেনও না। হাজিরা খাতায় উপস্থিতি বিদ্দমান। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ সচিবদের সাথে পরিচয় থাকায় নিয়মিত মাদ্রাসায় না এসেও উপর মহল থেকে শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করেই ওই লাইব্রেরিয়ান দীর্ঘদিন ধরেই অনৈতিকভাবে এসব সুযোগ সুবিধা নিয়মিত তুলে নিচ্ছেন।
সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মিনাল মেলান্দহ পৌরসভার দক্ষিণ শাহাজাতপুর এলাকার মৃত জালাল মন্ডলের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার কয়েক জন শিক্ষক জানান, প্রয়োজন ছাড়া খুলা হয় না লাইব্রেরি। আমরা কিছু জানি না এবিষয়ে সিনিয়ররা জানে। তিনি (অধ্যক্ষ) তো সব জানে তার পরেও মাদ্রাসায় না এসে সে বেতন তুলেন কিভাবে।
তাসমিয়া নামে আলিমের এক শিক্ষার্থী জানায় 'আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমাদের মাদ্রাসায় মোহাম্মদ মিনাল নামের সহকারী লাইব্রেরিয়ান আছে। এর আগে কখনো শুনিনি আর তাকে কোনদিন তাকে দেখিও নাই আমরা।
মো. হালিম নামে ওই মাদ্রাসার সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন,‘এই মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচ বছর পড়ালেখা শেষে ২০২৩ সালে এই মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে বের হয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছরে মো. মিনাল নামের কোনো সহকারী লাইব্রেরিয়ান যে দায়িত্ব আছে তা মাদ্রাসায় দেখিনি।
মাদ্রাসার আশেপাশের লোকজন জানান, তার সচিবালয়ে বড় বড় লোকদের সাথে পরিচয় আছে। তাদের ক্ষমতার দাপট দেখিয়েই তিনি ঢাকায় থাকেন মাদ্রাসায় আসেন না। মাসে দু-য়েক দিন এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। সচিবালয়ে লোকের প্রভাব খাটিয়ে বেতন উত্তোলন করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিনালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
তবে তার বাড়ির লোকজন জানান, মিনাল বেশিরভাগ সময়ই ঢাকা থাকে। মাদ্রাসায় মাসে কয়েকদিন আসে। এলাকায় মাঝে মাঝে ঘুরতে আসেন। গত সপ্তাহেও বাড়িতে এসে ঘুরে গেছেন তিনি।
মেলান্দহ সদর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সে এই মাসে আসেন নাই। অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়েছিলো মৌখিকভাবে। আর উনি যে নিয়মিত আসেন না সেটাই বলব। বিষয়টি এডিসি মহোদয়কে জানিয়েছি। সে মাঝে মাঝেই দুই থেকে চারদিন অনুপস্থিত থাকে। এ নিয়ে তাকে নোটিশ দেয়া আছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে নোটিশ দিচ্ছি। এর আগে কয়েকবার তার বেতন বন্ধ হয়েছে আবার সেই ঠিক করেছে। ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর বিএনপির বড় বড় দুই নেতা ফোন দিয়ে বলেছে তাকে একটু দেইখেন আমি বিনয়ের সাথে বলছি আমার চাকুরীর রিক্স নিয়ে তাকে বাচাঁতে পারব না।’
এ বিষয়ে মেলান্দহ সদর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সভাপতি ও জামালপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।