মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাঁকে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে তাকে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোমিনুল হক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিনজন সন্দেহভাজন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তের স্বার্থে গতকাল হাফিজুর রহমানকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তনুর ভাই মো. রুবেল বলেন, জানান ‘তদন্ত কর্মকর্তা আজ দুপুরে কল করে আদালতে থাকতে বলেছিলেন। বাবা -মাকে নিয়ে আদালতে এসেছি। আদালতে এসে একজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে পারি। আশা করি দীর্ঘ ১০ বছর পর বোনের হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের অদূরে একটি জঙ্গলে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানান।
সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন।