মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জামালগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর হামলায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সহ ৪ জন আহত, চিকিৎসা কেন্দ্র ও ৪টি বসতঘরে হামলা-ভাংচুর থানায় লিখিত অভিযোগ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আহত সিএনজি চালক এমরুল হাসান বাদী হয়ে আকতার হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে জামালগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রতিপক্ষের কবল থেকে আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক গুরুত্বর আহত অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
অন্যান্যদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আহতরা হলেন, নুরজামাল এর স্ত্রী তানিয়া বেগম (২২),আব্দুর রহিম খাঁর স্ত্রী আমিনা বেগম(১৯) জুলেখা বেগম (৬০), খাদিজা বেগম (১৬)।
শুক্রবার বাদ জুম্মা ভীমখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বড় ঘাগটিয়া গ্রামের হাজী আব্দুস ছাত্তার এর বসতবাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
সিএনজি চালক এমরুল হাসান জানান, একই গ্রামের আব্দুর রউফ এর ছেলে প্রবাসী আক্তার হোসেন,নৈইম উল্ল্যাহর ছেলে দুলাল মিয়া,আব্দুর রউফ, আলীর ছেলে কামাল মিয়া গংরা পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমার বসতবাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া বেগম সহ ৪ জনকে মারধর করে বসতবাড়ি ভাংচুর করেছে। বর্তমানে প্রতিপক্ষ গংদের ভয়ে আমি সহ পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সভাপতি মো ইসকন্দর আলী জানান,পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমরা শালিশে বসেছিলাম কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার আগেই আব্দুর রউফ পক্ষদ্বয় শালিশে উত্তেজিত হয়ে শালিশ অমান্য করায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারিনি।
স্থানীয় শালিশী ব্যক্তিত্ব এমদাদুল হক জানান, আমি শালিশে উপস্থিত ছিলাম কিন্তু আব্দুর রউফ পক্ষদ্বয় শালিশের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় জরুরী কাজে অন্যত্র চলে যাই।
হাজী আব্দুস সত্তার জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে আব্দুর রউফ ও আকতার হোসেন গংরা আমার বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া বেগম সহ ৪জনকে মারধর করে বসতবাড়ি ভাংচুর করেছে।
শিক্ষক ও চিকিৎসক আব্দুল আওয়াল জানান,আব্দুর রউফ ও আকতার হোসেন গংরা আমার ফার্মেসী সহ বসতঘরের দরজা-জানালা কুপিয়ে ছিদ্র ছিদ্র করে ফেলেছে। এই ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পরিবারকে রক্ষা করি।
ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন তালুকদার জানান,উভয় পক্ষ বিচার মেনেছে। আগামীকাল শালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করব।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।