মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি ক্যাম্পের বাজার পয়েন্টে দুই পরিবারের নারীদের ছবি ফেইসবুক মাধ্যমে পোস্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পের বাজার পয়েন্টে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্বম্ভরপুর থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে মোস্তাফিজুর রহমান।
অভিযোগের পর ওইদিন রাতে প্রবাসী জাকির হোসেনের পক্ষের সেলিম আহমদ নামের একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
অন্যান্য আসামীরা জামিনে আছেন। এই ঘটনার দুইদিন পর গত শনিবার সকালে নিজ ঘরের আসবাবপত্র ভেংগে ফেলে জাকির হোসেনের পরিবারকে ফাঁসাতে আরেকটি মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে থানায়।
পৃথক দুই ঘটনায় বিশ্বম্ভরপুর থানায় আলাদাভাবে দুইটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন আগে থেকে একপক্ষের নারীর পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রবাসী জাকির হোসেনের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পের বাজার পয়েন্টে উভয়পক্ষের মধ্যে দাওয়া-পাল্টা দাওয়া হয়।
প্রবাসীর চাচা জামিনপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা ফুরকান মিয়া বলেন, জাকির হোসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান বাবু দুজনেই আমার ভাতিজা। মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রীর সাথে প্রবাসী জাকির হোসেনের পরকিয়া সম্পর্কের বিষয়ে আমরা জানতাম না। শুনেছি জাকির হোসেনের সাথে পরকিয়া সম্পর্কের কারণে এখনও সে বিয়ে করেনি। বাড়িতে টাকা পয়সাও দেয় না। সব টাকা পয়সা মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রীকে দেয়। তিনি আরো বলেন,জাকির হোসেন মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রীকে আড়াই লক্ষ টাকা,দুইটি স্বর্ণের আংটি এবং এক বিঘা কৃষি জমি ক্রয় করে দিয়েছেন। মহিলাটি জাকির হোসেনের সাথে প্রতারণা করেছে। ঘটনার দিন আমি আমার ভাই বাড়িতে ছিলাম না কিন্তু মামলার আসামি। বতর্মানে আমরা জামিন আছি। গত শনিবার মোস্তাফিজুর রহমান বাবু তার ভাই ও মা মিলে আমাদেরকে ফাসাতে বসতঘরের আসবাবপত্র ভেঙ্গে আরেকটি অভিযোগ থানায় দিয়েছে। তাই জানমালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো মোখলেছুর রহমান বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান দুইটি অভিযোগ দাখিল করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।