কুমিল্লা প্রতিনিধি : জনস্বার্থে নিরাপদ, মানসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কুমিল্লায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ও ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত পাঁচটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অমান্য, লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম, অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সেবা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম ও ডা. ওসমান হোসেন জাবীরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র, লাইসেন্স, ল্যাব কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবা প্রদান করা হচ্ছে কি না—তা যাচাই করা হয়।
অভিযানে রেসকোর্স এলাকার প্রাইম হাসপাতাল-এ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ কারণে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
একই এলাকার এভারগ্রীন হাসপাতাল-এ সি-ক্যাটাগরির লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও বি-ক্যাটাগরির ল্যাব পরীক্ষা পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির ডায়াগনস্টিক ল্যাব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।
মিশন হাসপাতাল-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং অনুমোদিত ক্যাটাগরির বাইরে ল্যাব পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের ডায়াগনস্টিক সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া ডেল্টা হাসপাতাল-এ দীর্ঘদিন লাইসেন্স নবায়ন না রাখা এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরির বাইরে ল্যাব টেস্ট পরিচালনার কারণে ল্যাব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।
অপরদিকে ঝাউতলা এলাকার জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত ফি আদায় এবং অনুমোদন ছাড়া স্থান পরিবর্তনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সম্পূর্ণ ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান করেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করাই এ ধরনের অভিযানের মূল লক্ষ্য।