শিরোনাম :
যাদুকাটায় বালু উত্তোলনে যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট ভারতীয় এলসিতে টমেটো আমদানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ অপহরণের দাবি করা শিবির নেতা জিসানকে কারাগারে প্রেরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে প্রশিক্ষক তৈরির কর্মশালা পঞ্চগড়ে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত মসিকের নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ময়মনসিংহে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৫ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান আগামী ১ বছরের মধ্যে শাল্লাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদের ময়মনসিংহে বিভাগীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টানা বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে কুমিল্লা নগরী, জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

যাদুকাটা নদীতে নির্মাণাধীন সেতুর ৫ টি গার্ডার ভেঙে পড়েছে

Reporter Name
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ‎সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার উপর নির্মাণাধীন ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর পাঁচটি গার্ডার হঠাৎ করেই ভোররাতে ভেঙে পড়ে যায় নদীতে। যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাশের ৩ ও ৪ নাম্বার পিলারে উপরে থাকা সেতুটি ৫ টি গার্ডার ভেঙে পড়ে যায়।

‎সোমবার ১৭ মে ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। ‎স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই একটা বিকট শব্দ হয়। পরে আমরা সকালে নদীতে গিয়ে দেখতে পাই সেতুটির পূর্ব পাশের নদীর মাঝ খানে থাকা পিলারের উপর থেকে পাঁচটি গার্ডার ভেঙে পড়ে গেছে।

‎স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, যাদুকাটা নদীর নির্মাণাধীন ব্রীজে পাশ থেকে দিনের শেইভ মেশিন ও রাতের আধাঁরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভালো উত্তরে কারণে আজ ব্রীজ ভেঙে নদীতে পড়েছে। পাশাপাশি,  শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুটি নির্মাণা শেষ হওয়ার আগেই দফায় দফায় গার্ডার ভেঙে পড়ে যাচ্ছে নদীতে । এর আগেও ২০২২ সালেও একই পাশে আরও দুইটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে   গিয়েছিল। এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক বিরাজ করেছে। তাদের অভিযোগ, সেতুটি ৩ বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও  ৮ বছরেও শেষ না হওয়ায় এমনিতেই ভোগান্তিতে রয়েছে এ অঞ্চলের  সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি এই সেতুর কাজ পুরোটাই খুবই নিম্নমানের করার কারণে ভবিষ্যতের জন্যও প্রাণহানিসহ বাড় ধরণের শঙ্কায় দেখা দিয়েছে। এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এর উপর দিয়ে চলাচল করতেও তাদের থাকতে হিবে উৎকণ্ঠায় আর আর যেখানে সময় ভেঙে পড়ার ভয়ের মধ্যে।

‎যাদুকাটা নদীর বালু পাথর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘাগড়া গ্রামের হাকিকুল ইসলাম বলেন, রাতের আধাঁরে এই ব্রীজের আশপাশের ড্রেজার দিয়া বালু  তুলে রাতে নৌকা লোড করে। এই ড্রেজারেই আজকে আমরার স্বপ্ন ভাংছে।   আমরার স্বপ্ন স্বপ্নই তাইক্কা যাইব, এই ব্রীজ দিয়া যাইবার আর আমার স্বপ্ন পুরন আইত না।  আওয়ামী সরকারের প্রভাব কাটাইয়া ঠিকাদার ব্রীজের কাজ একবারে দূর্বল করছে। ভবিষ্যতে ব্রীজ দিয়ে যাইতে আইতে ভাইঙ্গা কইরা যাওয়ার ভয় থাকব মনের মধ্যে।

‎বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, এই এলাকার মানুষের অনেক স্বপ্ন ছিল এই ব্রীজ নিয়ে। কিন্তু এই স্বপ্ন এখন ভেঙে পড়ছে নদীতে। গত একবছর কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনট্রাকশন এই গার্ডার গুলো সেতুর উপর রড ও ফাইভ দিয়ে বসায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনট্রাকশন তার যখন পালিয়ে যায়। তারা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই এই নতুন সরকার আর টেন্ডার আহবান করে। টেন্ডার আহবান করা পরেই কনট্রাকশন লোকজন গত দুই-তিন দিন আগে এসে এই রড ও ফাইভ গুলো তার খোলে নিয়ে যায়। যার কারণে এই গার্ডার গুলো শূন্যে পরে যাওয়া ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এই গার্ডার গুলো সংযোগ করে দ্রুত সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে।

‎বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন বলেন , শুরু থেকেই ব্রীজের কাজ খুবই দূর্বল করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।  যার ফলে এ নিয়ে দুইবার ব্রীজের গার্ডার ভেঙে পড়ে গেছে।  আমি তানিয়া সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডিডি ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।  এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজের মাধ্যমে কারণ দশানো হোক।

‎জানাযায়, পর্যটন সম্ভাবনা আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকারও প্রকৌশল অধিদপ্তর। ৩ বছর মেয়াদি প্রায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে যাদুকাটা নদীর বিন্নাকুলি-গরকাটি এলাকায়  ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু’  নির্মাণকাজ পায় তমা কনট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেতুটির নির্মাণ  কাজ বিগত ২০২১ সালের জুনেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও  কাজ শেষ হয়নি ৮ বছরেও। অথচ সেতুটির মাধ্যমে জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং মধ্যনগর উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের আশায় বুক বেঁধেছিল এলাকাবাসী। এই আশায়ই আজ নিরাশা হয়ে ধরা দিচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষকে!

‎এলজিইডি আরও জানাযায়, ছয় মাস আগে যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর সব পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি স্থাপন শেষ হয়েছে এবং ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০টির কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো বাকি আছে ৩টি স্প্যান ও ২০টি গার্ডারের কাজ। এর আগেও ২০২২ সালে পাহাড়ি ঢলে স্রোতের ২ দুটি গার্ডার ভেঙে পড়ে গিয়েছিল। পরে পুনরায় গার্ডার দুট বসানো হয়েছি। আজ আবারও ওই পাশে ৫ টি গার্ডার ভেঙে পড়ে গেছে।

‎তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়েই সুনামগঞ্জ এক্সচেঞ্জকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি পূর্ব পাশের নদীর মাঝ খানে থাকা পিলারে ৫ টি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। তবে কি কারণে ভেঙে পড়েছে সঠিক বলা যাচ্ছেনা। এ ঘটনা ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর এটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তাদের তদন্তের পর বলা যাবে কি কারণে ভেঙে পড়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031