শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে কান্নার রোল: স্বপ্ন ধূলিসাৎ, তবুও টিকে থাকার লড়াই

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন এক বিভীষিকাময় চিত্র। যে হাওর ছিল দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের আধার, অকাল বন্যা আর প্রকৃতির বৈরিতায় তা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কৃষকের সারা বছরের ঘামঝরানো স্বপ্ন চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ ফসল পানির নিচে তলিয়ে আছে। যে সামান্য কিছু ধান কৃষকরা পানি থেকে টেনে তুলতে পেরেছেন, তা শুকানোর জন্য খলার মাঠে চলছে এক প্রাণান্তকর লড়াই। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও এই যুদ্ধে শামিল হয়েছে। প্রতিটি কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে নেই কোনো হাসি, আছে কেবল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা।
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও বেঁচে থাকার আকুতি
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হাওরজুড়ে থইথই পানির মাঝে উঁচুমতো খলার মাঠে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পচে যাওয়া ধানের খড়। কৃষকরা সেই খড় ও ধান রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন। তবে রোদের তেজ থাকলেও ফসলের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। কৃষকদের মতে, এবারের এই বিপর্যয় তাদের বহু বছরের সঞ্চয় আর স্বপ্নকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।
কৃষকের আহাজারি
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন। ফসল হারিয়ে এখন তারা ঋণের বোঝা আর খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছেন। এক কৃষক করুণ সুরে বলেন, “গোলার ধান তো পানির তলে, অখন পরিবার নিয়া কী খাইমু হেই চিন্তায় ঘুম আহে না।”

হাওরপাড়ের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন। কৃষিঋণ মওকুফ এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য সরকারি প্রণোদনার জোরালো দাবি উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ আর যথাযথ তদারকি থাকলে হয়তো এত বড় বিপর্যয় এড়ানো যেত।
সুনামগঞ্জের আকাশ এখন কালো মেঘমুক্ত হলেও হাওরবাসীর মনে জমেছে বেদনার মেঘ। ধূলিসাৎ হওয়া স্বপ্নগুলোকে পুনরায় গুছিয়ে আনতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী সরকারি পরিকল্পনা ও মানবিক সহায়তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031