মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইন পার হচ্ছিল। ‘মামুন পরিবহন’ নামের বাসটি চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী ছিল। এ সময় দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়।
সংঘর্ষের পর বাসটি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রেনের সঙ্গে টেনে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনি বড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনাস্থলে এবং বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, আর হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও নয়জনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষে প্রায় তিন ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।