মোহাম্মদ শাহাদাত আলম অন্তর : কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ায় দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা ককটেল বিস্ফোরণে মন্দিরের এক পুরোহিতসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতরা হলেন বাগানবাড়ি এলাকার সুজাত আলীর ছেলে আবদুল বারেক, নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ এবং কালীবাড়ি শিব মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী। এছাড়া আরও একজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী জানান, সন্ধ্যায় তিনি ভক্তদের নিয়ে কালী গাছতলা মন্দিরে পূজা করছিলেন। এ সময় একটি বস্তু তার কাছাকাছি এসে পড়ে। প্রথমে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি এবং মনে করেছিলেন গাছ থেকে কিছু পড়ে থাকতে পারে। পরে সেটিকে থাক্কা দিয়ে দূরে সরায়, পরে হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।
তার স্ত্রী ওমা চক্রবর্তী জানান, মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে একটি বস্তু নিক্ষেপ করে দ্রুত চলে যায়। বস্তুটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে তিনি সেটিকে বোমা হতে পারে বলে স্বামীকে সতর্ক করেন। এ সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে একটি ব্যাগও ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
আহত পথচারী আবদুল বারেক বলেন, তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেটের সামনে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ রাস্তার পাশে একটি ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি শ্যামল সাহা বলেন, সম্প্রীতির শহর কুমিল্লার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, মন্দিরের পুরোহিত আহত হওয়ার পর, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় মন্দিরের পাশের মসজিদের ফটকের সামনেও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, এতে দুই মুসল্লি আহত হন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছায়। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কুমিল্লা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, যারা নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উশৃঙ্খলমূলক পোস্ট দিয়ে দেশের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আজ শনিবার ছিল শনি পূজা। ইফতারের পরপরই তিনজন ব্যক্তি এসে মন্দিরের কাছে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে এবং একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যায়। মন্দিরে নিক্ষেপ করা ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিত কিছুটা আহত হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের মসজিদের ফটকের সামনে আরও দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মসজিদের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন মুসল্লিও আহত হন। ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া ব্যাগটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আমাদের টিম আসছে। আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে।