কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসী, দুই ডজনেরও বেশি হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি রেজাউলকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালমথন এলাকায় এই বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী মানববন্ধনে। গোয়ালমথনসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় এলাকাবাসী সন্ত্রাসী রেজাউল ও তার বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্লেকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা রেজাউলের সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ উগড়ে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী রেজাউল ও তার বাহিনী এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পুলিশ দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ মামলা বা অভিযোগ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
বক্তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিএনপির কতিপয় নেতা আগামীতে কাউন্সিলর হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, রেজাউল কুমিল্লার অপরাধ জগতের এক মূর্তিমান আতঙ্ক। সে ২০২১ সালের চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। এর আগেও তাকে যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হত্যাসহ প্রায় ২৪টিরও বেশি গুরুতর মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি অতি দ্রুত এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় না আনে, তবে তারা থানা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। গ্রামবাসীকে এই ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র হাত থেকে রক্ষা করতে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।