জেসমিন জুঁই : আজ ১২ ভাদ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলার বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত কাজী নজরুলের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ কুমিল্লা। নজরুলের রাজনীতি, প্রেম, বিয়ে, ব্যক্তিজীবন, সঙ্গীত ও সাহিত্যের বর্ণিল অধ্যায় জুড়ে রয়েছে কুমিল্লা। যিনি গিয়েছেন সাম্যের গান।
তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা; শৈশবে স্কুলের পাশাপাশি লাঠিখেলা, গানের আসর ও লেটো দলে অভিনয় করতেন।
১৯২২ সালে প্রকাশিত “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন।
ব্রিটিশ শাসন, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি—সব কিছুর বিরুদ্ধে কলম ধরেন।
তাঁর ভাষায়:
“আমি চিরবিদ্রোহী বীর – বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি শির।
কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক—সবক্ষেত্রেই তাঁর সমান দখল।
প্রায় ৪,০০০ গান রচনা ও সুরারোপ; এগুলো নজরুলগীতি নামে আজও জনপ্রিয়।
হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির অগ্রদূত; লিখেছিলেন:
“মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”
সংগ্রাম ও জীবনের শেষ অধ্যায়
ব্রিটিশবিরোধী কার্যকলাপে অংশ নেয়ায় একাধিকবার কারাবরণ।
জীবনের শেষভাগে অজানা অসুখে বাকশক্তি হারান।
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবি উপাধি দেয়া হয়।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত।
আজও প্রাসঙ্গিক তিনি প্রাসঙ্গিক। তাঁর বিদ্রোহী চেতনা অত্যাচার-অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা। প্রেমের কবিতা শেখায় মানুষে মানুষে ভালোবাসা। সাম্যের বাণী প্রমাণ করে—ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ভেদ নয়, মানবতাই শ্রেষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম কেবল জাতীয় কবি নন, বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন বিদ্রোহী আত্মা। তাঁর মৃত্যুদিনে আমরা শোকের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রতিজ্ঞা করি—অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব এবং মানবতার জয়গান গাইব।