শিরোনাম :
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা বিজয়পুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত রুদ্রপাল মৃৎশিল্প

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

রোকশানা নীলা : কুমিল্লা পদ্ধতির জনক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ( বার্ড)’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ড.আখতার হামিদ খানের অনুৃপ্রেরণা ও প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় কুমিল্লার আদর্শ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত রুদ্রপাল মৃৎশিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যয়। ফলে কাঙ্খিত উৎপাদন করতে না পারায় বর্তমানে কোন রকমে টিকে আছে।

১৯৬১ সালের ২৭ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের প্রগতি সংঘ নামের একটি যুব সংগঠনকে পরিবর্তন করে ড. আখতার হামিদ খান’র সহযোগীতায় বিজয়পুর রুদ্রপাল সমবায় সমিতি লিঃ গঠিত হয়। ১৯৬২ সালের ২৯ আগষ্ট সমবায় বিভাগ কর্তৃক নিবন্ধিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৫ জানুয়ারী উপআইন সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় ৭টি গ্রাম নিয়ে বিজয়পুর রুদ্রপাল মৃৎশিল্প সমবায় সমিতি লিঃ গঠিত হয়। শুরুতে এর সদস্য সংখ্যা ১৫ জন হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ২৪৫ জন। পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে ৯জন সদস্য। এই সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরী করে আসছে। বর্তমানে হাড়ি-পাতিল,জগ, বদনা, বাসন,প্লেট,সানকি, কলস, মাটির ডিনার সেট, বিভিন্ন ট্যারাকোটা, টব,ফুলদানী, শো-পিছ, বাটি, চায়ের কাপ, বিভিন্ন ধরনের পাত্র, মাটির ব্যাংক, ফুলের টব, মগ, ল্যাম্প বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতিসহ কমপক্ষে সহস্রাধিক বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরী হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে। সরেজমিন প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মালামাল বিক্রয়ের অর্ডার নিচ্ছে, কোথাও মালামাল পাঠানোর প্রস্তুতি, কোথাও মাটি পানিতে ভিজিয়ে নরম করছে, কোথাও মেশিনে মালের ফিনিসিং দিচ্ছে, কোথাও বা ডাইসে মাটি লেপে টব জাতীয় জিনিসপত্র বানিয়ে থরে থরে সাজাচ্ছে, আবার কোথাও আগুনে পোড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। কারখানায় কথা হয়, হিসাব রক্ষক ও বিক্রয় প্রতিনিধি লতা মজুমদার, সুস্মিতা পালের সাথে। তারা জানান, বর্তমানে কারখানায় মোট ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। তার মাঝে সরাসরি উৎপাদন তথা মাটির তৈরী জিনিস বানানোর কাজে নিয়োজিত ৪২ জন। তারা আরো বলেন, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের তৈরী মাটির জিনিসপত্র সারাদেশের বাইরে সিংগাপুর,মালয়েশিয়া, জাপান, ওমান, ফ্রান্স রপ্ততানি হচ্ছে। আর এতে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় কারিতাস নামের একটি এনজিও। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৯৯৭ সাল থেকে গ্যাস সংযোগ ছিল। এতে উৎপাদন ব্যয় কমসহ মালামালের ফিনিশিং নিখুঁত ছিল। ২০১৭ সালের পর সরবরাহ না থাকায় গ্যাস সংযোগ বর্তমানে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কারখানায় কথা হয়, প্রধান সুপারভাইজার নন্দন পাল এর সাথে। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, গ্যাস না থাকায় আমাদের উৎপাদন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সরকার ২০১০ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে দেয়। এই অর্থ দিয়ে ভৌত অবকাঠামোছাড়াও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছিল। এ সময় কয়েকটি সিরমিক পণ্য নির্মান করতো। কিন্তু গ্যাস সংযোগ না থাকায় সেগুলোর মান ধরে রাখতে পারছে না। বর্তমানে গ্যাস সংযোগ না থাকায় সরকারী অনুদানে ক্রয় করা মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈষজপত্র নির্মানের আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে খড়,কুটা,লাকড়ির উপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি সংকটের কারণে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

এ ছাড়ায় জ্বালানি সমস্যায় আগুনে পোড়াতে গিয়ে একটা বড় অংশ নষ্ট কিংবা ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক অরুন পাল জানান, বর্তমানে বছরে প্রতিষ্ঠানটি কমপক্ষে এক কোটি টাকার মালামাল উৎপাদন ও বিক্রয় করে। সেটা থেকে লভ্যাংশের ২০ শতাংশ সমিতির সদস্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। বাকী টাকা সমিতির অধীনে চলমান রুদ্রপাল মৃৎশিল্প কারখানায় মাটির জিনিসপত্র নির্মাণ ও বিপননে ব্যয় করা হচ্ছে। তাদের দাবী নতুন করে কারখানার গ্যাস সংযোগ পাওয়ার। এতে করে উৎপাদনবেড়ে পণ্যের গুনগত মান আরো ভালো হবে। সরকার যেন ড. আখতার হামিদ খানের প্রতিষ্ঠিত এই সমিতির উৎপাদন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেয়। এ দিকে রুদ্রপাল মৃতশিল্পের পাশোপাশি স্থানীয়ভাবে গত দুই দশকে আরো কমপক্ষে ৪/৫টি কারখানা প্রতিষি্ঠাত হয়েছে। আর সেগুলোও গ্যাস তথা তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত। তাদেরও দাবী দ্রুত গ্যাস সংযোগ প্রদানেসর মাধ্যমে মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলোর রুটি-রুজির ব্যবস্থার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক