শিরোনাম :
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের আমতলীতে ধীরগতিতে সংস্কার কাজ, নিত্যদিনের যানজট ভোগান্তিতে যাত্রীরা  বোদায় পাথরাজ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা  প্রাইভেট না পড়লে অর্ধবার্ষিকে নম্বর কেটে দেয়ার হুমকি  বন্ধ চা কারখানা খুলে দিতে পঞ্চগড়ে চা চাষীদের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপসহ আটক ১ গ্রামপুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় সঙ্গীত লিখতে না পারায় সবাই ফেল  রাজিবপুর উপজেলা চত্বরকে মাদক মুক্ত রাখতে প্রসাশনের উদ্যোগ কুমিল্লায় ৫ সাংবাদিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিল  শাল্লায় জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরার হিরিক
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের আমতলীতে ধীরগতিতে সংস্কার কাজ, নিত্যদিনের যানজট ভোগান্তিতে যাত্রীরা 

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রোকসানা নীলা : ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের আমতলীতে ধীরগতিতে সংস্কার কাজ, নিত্যদিনের যানজটে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও অগ্রগতি নেই সতেরো কোটি টাকা টেন্ডার কাজের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের আমতলীতে সংস্কারের নামে চলছে জন দূর্ভোগ। তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হচ্ছে না চলমান কাজ। নিজেদের খেয়াল খুশিতে কাজ বন্ধ ও চালু করার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। যেকারনে দিনের সিংহভাগ সময়েই যানজট ভূগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

মাত্র ১ হাজাদ ৩৬৫ মিটার সংস্কার কাজে সতেরো কোটি টাকার টেন্ডার হলেও কাজের অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও এলাকাবাসীর মাঝে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের আমতলী অংশের বড় একটি অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হলে এতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থা বিবেচনায় প্রায় সতেরো কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে প্রথম ধাপে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি। পরে সময় বাড়িয়ে দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু হলে জানুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও তা শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। জানুয়ারি শেষ হয়ে ফেব্রুয়ারীর তৃতীয়াংশেও কাজ বন্ধ রেখে জন দূর্ভোগ বাড়াচ্ছে দায়ীত্বরত প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গাড়ির চাপ। বিকেল থেকে শুরু হয় তীব্র যানজট, যা সন্ধ্যা ও রাতে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা লাইনে রূপ নেয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের। রমজান মাসেও কারো অবহেলার জন্য হাজার হাজার যাত্রীদের দূর্ভোগ নিয়ে সমালোচনা করছেন বিশিষ্টজনেরা।

পাশাপাশি কুমিল্লার আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চান্দিনা, হোমনা, তিতাস, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একমাত্র প্রধান এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়।

কুমিল্লার বিশিষ্ট পরিবহন ও রেস্তোরা ব্যাবসায়ীর মালিক লুতফুর রহমান বলেন, এই দূর্ভোগে আমাদের এতই ভোগান্তিতে আছি, আমরা যে কোন প্রতিক্রিয়া জানাবো সেই ক্রিয়া ই হারিয়ে ফেলছি। আমরা তো এগুলা সহ্য করে নিতে পারি কিন্ত যারা সাধারণ পরিনহনের চালক ও যাত্রী তারা কোন অপরাধ না করেই দিনের পর দিন এই শাস্তি ভোগ করছে। ঢাকা-চট্রগ্রাম ও কুমিল্লা শহরে প্রবেশমুখের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটিতে ঘন্টার পর ঘন্টা এভাবে যানজটে থাকা টা খুবই কষ্টের বিষয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার উপ বিভাগীয়  প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তো চাইলে একসাথে পুরো কাজ দ্রুতই করতে পারি, কিন্ত কৌশলগত কারনে অর্ধেক অর্ধেক করে বিভিন্ন পার্টে কাজ করতে হয়। যেকারনে এটা দেরি হচ্ছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়কে গাড়ির অনেক চাপ থাকায় কাজ দেরি হচ্ছে। আবার ধাপে ধাপে করতে হয় বলেও সময় বেশি লাগছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ করার জন্য বলেছি।

আমতলী এলাকার ব্যাবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, এখানে কাজের নামে আমাদের সাথে তালবাহানা করছে ঠিকাদাররা। তারা মাসের পর মাস সময় নিয়েও কাজ শেষ করে না। নিজেদের খেয়াল খুশিতে কাজ করে আবার বন্ধ রাখে। এক মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখে আমাদের ব্যাবসাত মারাত্মক ক্ষতি করছে। কোন কাস্টমার আমাদের দোকানে আসতে পারে না। এ মাসে আমরা দোকানের ভাড়াও দিতে পারব না।

হক এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান এনামুল হককে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম বলেন, মহাসড়কের কাজে বিলম্ব হইলে ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের ভুগান্তি বাড়তে পারে। আমি সেখানে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাদেরকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক