মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মব সৃষ্টি করে জমিতে হাল চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায় তেঁতুলিয়া উপজেলার ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধাঁরে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে হাল চাষ করেছে আনার আলী, আব্দুস সালাম সহ ১১ জন ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা গ্রামে।
রবিবার ৩০ নভেম্বর দুপুরে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন জমির মালিক মাহফুজার রহমান।
তিনি জানান সহকারী জজ আদালত-পঞ্চগড় ৩৩/২৫ নং মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলার বাদী জাকের হোসেন, বিবাদী আনার আলী, আব্দুস সালামসহ প্রায় ১১ জনের সাথে জমি জায়গা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের।
জমি জায়গার বিষয়টি নিয়ে বাদী জাকের হোসেন আদালতে ১১ একর ৭৩ শতক জমির উপর একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ে করেন। মামলার পরিপেক্ষিতে আদালত একটি নিষেধাজ্ঞা অন্তর্বতীকালীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পরোয়ানা জারি করেন।
সেই আদেশ অমান্য করে রাতের আধাঁরে আনার আলী, আব্দুস সালাম, কালাম হোসেন, মমিনসহ প্রায় ১১ জন ব্যক্তি বিরোধীয় জমির প্রায় ৫ বিঘা জমিতে গোপনে রাতের আঁধারে হাল চাষ করেছে।
এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুস সালামের কাছে হালচাষের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে সেখানে জবাব দিব। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়।
মামলার বাদী মো: জাকের হোসেন বলেন, এই জমিটি দীর্ঘদিন থেকে আমরা চাষাবাদ করে আসছি। বিরোধীয় সকল জমিগুলো আমাদের দখলে আছে। কিন্তু তারা গায়ের জোরে লাঠি ও ক্ষমতারবলে জমিগুলো হাল চাষ করেছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আইনি লড়াইয়ে যে রায় হবে, সেটাই মানে নিব। তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে বিবাদীপক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং বাদীপক্ষকে মারধর, লাঠিসোঁটা দিয়ে, প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বুলবুল হোসেন বলেন জাকির হোসন দীর্ঘ দিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছে। জমির প্রকৃত মালিক জাকির হোসেন । কিন্তু স্থানীয় কিছু মব সৃষ্টিকারী উছৃংখল ব্যাক্তি রাতের আধারে জমিতে হাল দেয়। এলাকায় উত্তেজনা বিজার করে। স্থানীয় আপোষ তারা মানে না।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এমন জোরপূর্বক দখল এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাদীপক্ষ মো: জাকের হোসেন দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিষয়টি জানায় এবং বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মুসা মিয়া বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।