তৌফিকুর রহমান তাহের, সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের কাংলার হাওরের ঢেউয়ের ধাক্কা থেকে সড়ক রক্ষায় সুকলাপুর থেকে আজিজনগর পর্যন্ত পালা সাইডিংসহ ব্লক স্থাপন ও সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে সুকলাপুর, এরুয়াখাই, তিলুরাকান্দি ও আজিজনগরসহ আশপাশের গ্রামগুলোর পাশে থাকা চলাচলের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘস্থায়ীভাবে টিকে থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে কাংলার হাওরের ঢেউয়ের চাপের কারণে এরুয়াখাই-তিলুরাকান্দি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়। এতে লক্ষীপুর ইউনিয়ন থেকে হরিনাপার্টী হয়ে সুনামগঞ্জ শহরে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। এবার টেকসই উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তিলুরাকান্দি গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, আমি কাজের তদারকিতে যুক্ত আছি। শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও পরে ঠিক হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সবাই মিলে কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন করবো।
একই গ্রামের সোহেল মিয়া জানান, উন্নয়ন কাজের সময় সহযোগিতা না করে নিজের ফায়দা লুটতে গেলে এলাকার কাজ কখনো ভালো হয় না। এবার আমরা সবাই দেখাশোনা করবো।
জাকির মিয়া বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত মাতব্বরি করলে কাজের মান নষ্ট হয়। তাই সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
এরুয়াখাই গ্রামের হাফিজ আব্দুল আজিজ ও আব্দুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি।
স্থানীয় আব্দুল মনাফ জানান, শুরুর কাজের মান ভালো হয়েছে। আশা করি ঠিকাদারের সদিচ্ছায় পুরো কাজই ভালো হবে।
বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। কাজ হলে হাওরের আফাল থেকে সড়ক ও ঘরবাড়ি দুটোই রক্ষা পাবে।
লায়েক মিয়া বলেন, সড়কের উন্নয়ন মানে আমাদের এলাকার উন্নয়ন। কাজ ঠিকঠাক হলে টেকসই উন্নয়ন হবে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, তিলুরাকান্দি সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হলে অনেক সুবিধা হবে।
জাহের আলী জানান, এরুয়াখাই-তিলুরাকান্দি সড়কের কাজ ভালো মানের হচ্ছে। কাজ হলে বন্যার আফাল থেকে এলাকা নিরাপদ থাকবে।
রাকিব আলী বলেন, সিডিউল অনুযায়ী কাজ চলছে, সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। কেউ কেউ অযথা বিরোধিতা করছে, যা কাম্য নয়।
লক্ষীপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ফুল মিয়া বলেন, বারবার সরেজমিনে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করেছি। কাজ ভালো মানের হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিরোধিতা করছে, যা উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
ঠিকাদার আবুল মিয়া জানান, আমি সিডিউল অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু লোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাধা দিচ্ছে। সকলের সহযোগিতা পেলে কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করবো।