মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের সদর-বিশ্বম্ভরপুরস্থ ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীর ভাঙ্গন রোধে পূর্ব-পশ্চিম তীরের বেশ কয়েকটি গ্রামের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কমসূচী পালন করায়। ধোপাজান তীরবর্তী হুরারকান্দা গ্রামের কৃষক লায়েছ মিয়া, মো সাচ্চু মিয়া, খোকন মিয়া, মহিনুর মিয়া, মাহবুব আলম, আজিম উদ্দিন, ফরহাদ মিয়া, কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় অপ-প্রচার চালিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কাইয়ারগাও স্কুল মাঠে গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিশাল মানববন্ধন কমসূচী পালিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা ধোপাজান তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন মিলে আন্দোলন করেছি নদী ভাঙন রোধ করার জন্য। কারণ নদী তীরে আমাদের ঘরবাড়ি,স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ইত্যাদি। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল কিছু সংখ্যক নামধারী সাংবাদিক দ্বারা আমরা প্রতিবাদকারী বেশ কয়েকজন কৃষকের নাম উল্লেখ করে নিউজ পেপার ছাপিয়ে হয়রানি সহ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতি সাধন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে হয়রানি ও অপ-প্রচার থেকে আমাদেরকে মুক্তির দাবী জানাই। মানহানীকর অপ-প্রচারে এমন হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। যে কারণে কৃষক পরিবার সহ অনেকটাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। এ দের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের পাশাপাশি কৃষক পরিবারের লোকজনও আদালতের সরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সব অপ-প্রচারকারী নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তের পর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার প্রস্ততিও চলমান রয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় চর থেকে বালু খেকো দুষ্কৃতিকারী সিন্ডিকেট চক্র রাতের আধারে বালু বিক্রি এবং বালু লুট করায় তাহিরপুর থানা ও পরিবেশ অধিদপ্তর ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে লুটের মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় শিক্ষক, প্রভাষক, নিরীহ-নিরপরাধ শ্রমিক এবং ক্ষু্দ্র ক্ষুদ্র অনেক ব্যবসায়ি ও কৃষকের নাম। ষড়যন্তমূলক মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য দফায় দফায় সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন কমসূচী পালন করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক হাজী মিরাস উদ্দিন বলেন, আমরা ধোপাজান চলতি নদীর তীরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। গত দুই সপ্তাহ আগে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজের জন্য ভিট মাটি উত্তোলন করার জন্য বিধ্বংসীকারী দুটি ড্রেজার নিয়ে আমাদের বসতবাড়ির পেছন থেকে মাটি উত্তোলনের জন্য আসলে আমরা তাদেরকে নিষেধ করি। কিন্তু আমাদের নিষেধ-বাঁধা অমান্য করে ভিট মাটি উত্তোলন না করে খনিজ বালু উত্তোলনের এক পযার্য়ে আমরা প্রশাসনকে অবঘত করি। পরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা সরেজমিন এসে ড্রেজার দুটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর পর থেকেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মহল আমাদের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের গ্রামের বেশ কয়েকজন নিরীহ কৃষককে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। যারা এসব করছে আমি তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাই।
তীরবর্তী কৃষক আবু লেইছ বলেন, আমাদের বসতবাড়ি এবং কৃষি জমির মাটি রক্ষার্থে প্রয়োজনে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো। মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই। মাটি রক্ষার্থে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করব। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল যারা বালু লুটে পুঠে খেয়েছে তাদের নামে রিপোর্ট লেখা হয় না। লেখা হয় আমাদের মত অসহায় কৃষকদের বিরুদ্ধে। যা একেবারে সত্য নয়। আমি ঐ ঘটনার বিষয়ে নিন্দা জানাই। অসৎ উদ্দেশ্যে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে। যা মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাদের গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষককে জড়িয়ে যে নিউজ পেপার ছাপানো হয়েছে আমরা সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই।