মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এই বছর পাসের হার জিরো পার্সেন্ট হলেও এমপিও বাতিল হবে না। তবে পরীক্ষা চলাকালে কোন প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেলে কেন্দ্র সচিবকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাথরুমেও যদি কোন নকল পাওয়া যায়- তার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহি করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ নকলের সহযোগিতা করলে তাদের কেউ আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে নকল করতে দেয়া হবে না, নকলের সহযোগিতা করতে দেয়া হবে না।
আজ শনিবার ৪ এপ্রিল দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি কোন শিক্ষক খাতা দেখায় দুর্বলতা করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে নম্বার কম দেওয়া বা বাড়িয়ে দেওয়া হয় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইন করা হয়েছে। কোনো ধরনের পরীক্ষাতেই আর নকল করার কোন সুযোগ নেই। সেটা পাবলিক পরীক্ষা হোক কিংবা চাকরির ইন্টারভিউ হোক সব পরীক্ষাতেই একই আইন বলবৎ থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, নকলের বিরুদ্ধে অভিযানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে সবসময় সাহস যুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন নকলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে। তার একটাই এজেন্ডা- আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক ভূমিকা নিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জেনজিরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। ৫ আগস্ট এর পর থেকে আমরা নতুন করে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা অন্যায় করে না, তারা আর কোন অন্যায় দেখতে চায় না। তারা চেয়েছে বাংলাদেশে পরিবর্তন আসুক। পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তিত বাংলাদেশে তারাই পরীক্ষা দিচ্ছে। তাদেরকে দিয়েই আগামীতে আমরা দেশ চালাবো। তারাই তো আমাদের আগামী দিনের পরীক্ষার্থী। তারা কি আর কোন অন্যায় করবে? না, করবে না। বরং তারা শিক্ষকদেরকে আরো সহযোগিতা করবে। তাদের অভিভাবকরাও সত্যের পথে। পুরো জাতিই আজ সত্যের পথে। আজকে আমি এখানে প্রথম অনুষ্ঠান শুরু করেছি, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় আমি অনুষ্ঠান করব। সকলের অভিমত শুনবো।
প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সময়মত পাঠদানে ক্লাসরুমে উপস্থিত থাকেন কিনা সেটা রেকর্ড রাখতে হবে। এছাড়াও শতভাগ কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। কোচিং সেন্টার এবং ব্যাংকের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনও নিবন্ধনের আনবে সরকার। সবেমাত্র দায়িত্ব পেলাম, এই দেশে আরও কোচিং সেন্টার চলতে দেয়া হবে না।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধু্রী, কুমিল্লা -৯ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালাম, কুমিল্লা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমএ মান্নান, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রলার মো.কবির আহমেদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো.শামছুল ইসলাম।