সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ : ২৯ এপ্রিল বিধানসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট। আর এই ভোটকে কেন্দ্র করেই, বেহালা পূর্ব বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শংকর শিকদার এবং বেহালা পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ সমর্থনে সকাল সাড়ে দশটায় বেহালা থানার সামনে থেকে বেহালা ম্যান্টন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রোড শো করেন।
বিশাল শোভা যাত্রার মধ্য দিয়ে, অগণিত বিজেপি প্রার্থীর উপস্থিতিতে রোড শো উত্তাল হয়ে ওঠে। বিজেপি কর্মীদের কন্ঠে ভেসে আসে জয় শ্রীরাম, আর নয় তৃণমূল সরকার, এবার আসবে বিজেপি সরকার। ২০২৬-এ জনগণ বুঝিয়ে দিচ্ছে আসছে বিজেপি সরকার।
সারা রাস্তার দুইধার জুড়ে যেমন সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন অমিত শাহকে দেখার জন্য, তেমনি নিজেদের মোবাইলে ভিডিও বন্দি করতেও ব্যস্ত ছিল রাস্তার দু'ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অগণিত দর্শক। আর মধ্য থেকেও আওয়াজ আছে জয় শ্রীরাম, অন্যদিকে অমিত সাহ জী। দুইজন প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ ও শংকর সিকদারকে সঙ্গে নিয়ে একটু একটু করে গাড়ি এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং দর্শকের দিকে দুহাত তুলে সম্বর্ধনা জানান। তবে রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা জনগণের মধ্য থেকে ভেসে আসে সত্যিই কি এবারে বিজেপি আসছে, দিদি পারবে তো জিততে, আজকে রোড শো তে প্রমাণ করে দিয়েছে নতুন সরকার হয়তো হতে চলেছে। এই গরমে কয়েক হাজার মানুষ পায়ে পা মিলিয়েছেন।
মিছিল যখন ম্যান্টোনের সামনে এসে শেষ হয় অমিত জী সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি কথা জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন। তিনি বলেন, ২০২৬-এ যদি আপনারা বিজেপিকে আনেন, কর্মসংস্থান করবই, বেকারত্ব দূর হবে, মহিলারা সুরক্ষা থাকবে, বাংলায় কল কারখানা তৈরি হবে, বিভিন্ন প্রকল্প আমরা যা ঘোষণা করেছি ভোটের ৪৫ দিনের মাথায় আমরা তুলে দেবো। আগে আপনারা বলুন বিজেপি সরকার চান কিনা।
এর সাথে সাথে তিনি তৃণমূল গুন্ডাদের ভালোভাবে সাবধান করে দিলেন, ২৯ তারিখে যেন গন্ডগোলের সৃষ্টি না করা হয়, তাহলে তার ফল হবে অন্যরকম ভয়ংকর, আর যদি করে তাহলে ৪ তারিখে আমরা বুঝিয়ে দেবো। তিনি আরো বলেন ভোটের পরও বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র বাহিনী থাকবে। আজকে দিদি বুঝে গেছেন বাংলায় মানুষ কি চায়, বাংলায় মানুষ অনেক নিপীড়ন সহ্য করেছেন, এবার পরিবর্তন চাইছে, পরিবর্তন হবেই। বাংলায় নতুন সরকার তৈরি হবে। আর বাংলায় সমস্ত কিছু গড়ে উঠবে। পিসি ভাইপো, কিছু করতে পারবেনা, এবার সাবধান হয়ে যান। দ্বিতীয় দফার ভোটে জনগণ রায় দেবে।