রোমান আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী প্রচারণা, গণভোটের প্রচারণাসহ নানা প্রস্তুতি চললেও নারী ভোটারদের মাঝে নেই নির্বাচনী আমেজ। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চান না নারী ভোটাররা। জামালপুর-৩ আসনে মেলান্দহ উপজেলার চরাঞ্চলে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের মাঝে ভোটদানে আগ্রহ খুবই কম দেখা যাচ্ছে।
অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তারহীনতার শঙ্কা, রাজনীতিবিদদের কথার প্রতি আস্থার অভাব ও পারিবারিক বাধাই উপজেলার চরাঞ্চলের নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানে অনীহা বলে জানা গেছে। সামাজিক ও পারিবারিক চাপও বড় একটি বাধা। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা স্বাধীনভাবে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া বা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন না তারা। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়েই আস্থা হারিয়েছেন নারীরা। এছাড়া নারী ভোটারদের প্রতি নেই প্রার্থীদের নেই কদর। তবে নারীদের ভোটেই পালটে যেতে পারে মাঠের চিত্র। নারী ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের হালনাগাদ অনুযায়ী নতুন ভোটার নিবন্ধন করেছে ১৪১২৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ৭৫০৪জন ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬৬১৯জন। এ উপজেলায় পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার বেশি। এছাড়া প্রতিনিয়ত নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়ছে নারী ভোটার সংখ্যা। তবে ভোটার তালিকায় নারীদের অংশগ্রহণ বেশি হলেও কেন্দ্রে গিয়ে নারী ভোটারদের ভোটদানে শঙ্কা রয়েছে।
একাধিক নারী ভোটাররা জানান, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পরই জানা গেছে ভোট হয়ে গেছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও কাজ করে ভয়। কোন নির্বাচনে ভোট দিলেও নারীদের জন্য পরিবর্তন কিছু দেখেননি তারা। নারীদের নিয়ে নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন সসম্ভাবনা তৈরির আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর হয় না বলে জানান তারা।
ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ছবিলাপুর এলাকার তাছলিমা বেগম বলেন, আমরা আগের নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে কেন্দ্রের ভিতরে যাওয়ার পরই জেনেছি আমাদের ভোট দিতে হবে না, ভোট হয়ে গেছে। এমনই যদি হয় তাহলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কি করবো। আমরা নারী বলে ভোট দিলেও আমাদের সমস্যার কোন সমাধান হয় না।
চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়নের মহিরামকুল এলাকার সুফিয়া খাতুন বলেন, ভোটকেন্দ্রে মাঝে মাঝে উত্তেজনা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিজের ভেতরে ভয় কাজ করে। সব ধরনের পুরুষ মানুষ থাকে তাই ভোট দিতে বাড়ি থেকে নিষেধ করা হয়। এইসব কারণেই ভোট দিতে যেতে পারি না।
নারী ভোটারদের দাবি, শুধু ভোটের আহ্বান নয়, প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ, নারীদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে খতিয়ে দেখে তা সমাধান করা। পরিবর্তন আসলেই নারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেন নারী ভোটাররা।
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, নারীদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করবো। নারী ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি শুধু আমরা একা নয় প্রার্থী যারা আছেন তারাও একটু উৎসাহিত করবেন। নারীদের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হবে যেনো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিতে পারেন।