বিশেষ প্রতিনিধি : কুমিল্লার লালমাইয়ে সড়ক সংস্কার কাজ শুরুর আগেই বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই রাস্তার পাশের ২৩টি গাছ কাটায় এলজিইডি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটেছে, লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাগমারা থেকে হাজতখোলা বাজার সড়কে।সড়ক উন্নয়ন কাজের প্রস্তুতি হিসেবে রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট শুরু করা হলে সীমানার ভেতরে থাকা গাছগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বন বিভাগের অনুমোতি নিয়ে গাছ কাটতে হয়, কিন্তু বন বিভাগের কোনো অনুমতি না নিয়েই রাস্তার পাশে থাকা ২৩টি গাছ কেটে ফেলা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটার ঘটনা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, “বাগমারা থেকে হাজতখোলা সড়কের প্রশস্তকরণ কাজে বিনা অনুমতিতে রাস্তার দুই পাশের গাছ কাটার তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে বন ও পরিবেশ বিভাগকে কাটা গাছ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বন বিভাগের বিদ্যুৎ এর খুঁটি সরানো এবং সড়কের ২ পাশের গাছ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণের পরে সড়কের সংস্কার কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
লালমাই উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অতিরিক্ত দায়িত্ব ইন্জিঃ মোঃ ওহিদুল ইসলাম জানান, বাগমারা থেকে হাজতখোলা সড়কের প্রশস্তকরণ কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা রাস্তার দুই পাশের গাছ কর্তন করেন, যা বন ও পরিবেশ বিভাগের অনুমোদিত ছিল না। এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও কুমিল্লা আঞ্চলিক বন ও পরিবেশ বিভাগকে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে সড়কের দুই পাশে গাছ কর্তন না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাটের ক্ষেত্রে পাশের জমিতে মাটি থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে। তবে যেখানে পুকুর, কুয়া বা গর্ত রয়েছে, সেখানে বাইরে থেকে মাটি এনে ভরাট করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন ও পরিবেশ বিভাগের কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ও বিদ্যুৎ এর খুঁটি সরানোর পর সড়কের প্রশস্ত ও সংস্কার কাজ করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর লালমাই উপজেলা বন ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর ইসলাম হিরন জানান,গাছ কাটার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানতে পেরে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্দেশে আমি ও (লাকসাম, লালমাই -নাঙ্গলকোট) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাটা গাছগুলো জব্দ করি। পরবর্তীতে জব্দকৃত গাছগুলো কুমিল্লা বিভাগীয় বন কার্যালয়ে প্রেরণ করি । সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কুমিল্লা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন।
মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোঃ জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানাকে একাধিক বার কল দিলে পাওয়া যায়নি।