মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কঠইর ইউনিয়নে বেরীবাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, ইমাম হোসেন (৪৫), পিতা: রফিক উল্লাহ; জসিম উদ্দিন (৩৫), পিতা: তাহির আলী; রূপা মিয়া (৫০), পিতা: মতন মিয়া; উজ্জ্বল (২৫), পিতা: আব্দুল হামিদ; ফজলু মিয়া (৫০), পিতা: ছালিম উদ্দিন; সৈয়দ মিয়া (৬০); আইয়ূব উল্লাহ এবং এমদাদ মিয়া (৪৫), পিতা: আলতাব আলী। তাদের সকলের বাড়ি নোয়াগাঁও গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের কান্দাগাঁও এলাকায় মোহনপুর, ডাকুয়া ও চন্দফা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে নির্মিত বেরীবাঁধে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ফসল পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ আলোচনা করে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে বাঁধের একটি অংশ কাটতে গেলে অপর একটি পক্ষ বাধা দেয়।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই পানি নিষ্কাশন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
কাঠইর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষকদের স্বার্থে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতে একটি পক্ষ বাধা দিলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি প্রয়োজন।
কাঠইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি সামছুল ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশন না হলে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাঁধের কিছু অংশ কাটার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ সময় একটি পক্ষ হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, বাঁধের এক পাশের হাওরে বেশি পানি, অন্য পাশের হাওরে কম পানি। তাই কিছু পানি নিষ্কাশন করার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।