মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় ৩১ শতক সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এ সব অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল।
স্থানীয়রা জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট এলাকার এই মূল্যবান ভূমির বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিখেকো পরিবার এ সরকারি জমি দখল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
উচ্ছেদের আগের রাতে অবৈধ দখলদার শাহীন ও শামীম সরকারি ভূমিতে থাকা অন্তত ১৪টি গাছ কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে আরও অন্তত ৪টি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও সরকার ৩১ শতক ভূমি উদ্ধার করতে পেরেছে, যা নিঃসন্দেহে আনন্দের। তবে সরকারি জমির ওপর থাকা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
সুনামগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় ঘাটলা নির্মাণের সময় অবৈধ বসতকারীরা এটিকে নিজেদের জমি দাবি করে বাধা দেয়। ফলে ঘাটলা এক ফুট সংকীর্ণ করে নির্মাণ করতে হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে অফিস-আদালতে অনুসন্ধান শুরু করি। বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় মামলাসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ অবশেষে ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলো।
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি মূল্যবান সরকারি ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি জমি থেকে গাছ কর্তনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল বলেন, আজ লঞ্চঘাট এলাকায় সরকারি ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি ভূমিতে থাকা গাছ কর্তনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল লঞ্চঘাট এলাকার খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবিতে পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এ আবেদনের পর সরকারি ভূমির সত্যতা যাচাই করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। জেলা প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত এই সরকারি ভূমি উদ্ধার সম্ভব হয়।
এ উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্থানীয়রা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পূর্ব ইব্রাহীমপুরবাসী।