রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে লাভের আশা দেখছেন কৃষকরা

Reporter Name / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনা আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেকান্দার খালী, টিয়া খালি, দক্ষিন আমতলী আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের কেওবুনিয়া, আরপাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নেরতা রিকাটা, চাওড়া ইউনিয়নে ঘটখালী,এছাড়া গুলিশাখালী ইউনিয়নে ২৯১হেক্টর জমিতে করা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ।

মোঃ সোলায়মান, মোহাম্মদ কাওসার, মোঃ বাবুল হাওলাদার, মোহাম্মদ দেলোয়ার মুসল্লী,মোঃ রাহাত,
শৈলেন চন্দ্র হালদারসহ ৬ জন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সূর্যমুখী ফুলের এমন অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন পরিবার নিয়ে।

এ দিকে ফুল চাষ করে আয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় খুশি কৃষকরা।

স্থানীয় গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো:ফারুক আকন জানান, রবি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের কৃষিবান্ধব সরকার সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। সূর্যমুখী একটা চমৎকার ও সম্ভাবনাময়ী ফসল। উক্ত ইউনিয়নের কৃষক নির্বাচনসহ সকল ধরনের সহায়তা করেছে ইউনিয়নে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা। তাদের পরিশ্রমের কারণেই আজ মাঠে সূর্যমুখী ফুলগুলো হাসছে।

সূর্যমুখী হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে বাগানটি। সূর্যমুখীর ফলনে সন্তুষ্ট হয়ে কৃষক মো.বাবুল হাওলাদার ওমো: সোলায়মান বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: রাসেলের অনুপ্রেরণা থেকেই সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছি। বিনামূল্যে বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়েছেন। ফলনও ভালো হবে।

যদি আবহাওয়া ও বাজার ভালো থাকে অনেক টাকা লাভ হতে পারে। আমাদের মতো আরও কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সূর্যমুখীর চাষ করবেন বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: রাসেল জানান, সূর্যমুখী ফুলের তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক উপকারী। সরকারের প্রণোদনার কর্মসূচির আওতা তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার জন্য কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নিয়মিত আমরা মাঠ পরিদর্শন ও পরামর্শ দিচ্ছি।

সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেলে লিনোলিক এসিড থাকে, যা হার্টের জন্য ভালো। সূর্যমুখী তেলের উৎপাদন বাড়লে মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত তেল পাবে, চাষিরাও লাভবান হবেন। কম খরচে বেশি লাভের সুযোগ থাকায় ওই এলাকার আরও অনেকেই সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রবি ফসলের মধ্যে সূর্যমুখী অন্যতম। তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফুল ফোটার পর বাগানগুলো অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করেছে।

তিনি আরোও জানান, চলতি মৌসুমী আমতলী উপজেলায় সূর্যমুখী আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩০৫ হেক্টর তার মধ্যে ২৯১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে।

এছাড়া বেশ কিছু জনপ্রিয় জাতের মধ্যে হাইসান ৩৩, হাইসান ৩৬, চ্যাম্প, বারি সূর্যমুখী ২ এবং বারি সূর্যমুখী ০৩। ডিসেম্বর মাসে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি তবে সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে যে সকল জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে সেগুলো খুবই চমৎকার এবং আমরা আশা করি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আমরা পূরণ করতে পারব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, কৃষকদের সূর্যমূখী চাষে উৎসাহীতকরন সহ সরকারি প্রনোদনায় মাঠ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাএা অর্জন করতে সক্ষম হবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক