পঞ্চগড় প্রতিনিধি : দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে 'ব্ল্যাক ডায়মন্ড' খ্যাত পেয়াজের বীজ চাষাবাদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবার। বাজারে চড়া দামের কারণে কৃষকেরা এই বীজকে উপাধি দিয়েছেন 'ব্ল্যাক ডায়মন্ড' বা 'কালো সোনা' হিসেবে। কিন্তু গত ২৭ মার্চ রাতে হটাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে রুহুল আমীন সহ কালো সোনা খ্যাত পেয়াজের বীজ চাষিদের।
৩০ মার্চ সোমবার জেলার বোদা উপজেলায় ময়দানদীঘি ইউনিয়নের ভীমপুকুর এলাকায় দেখা যায়, প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে পেয়াজের বীজ লাগিয়েছেন স্থানীয় কৃষক রুহুল আমীন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সার, কীটনাশক ও অন্যান্য বাবদ প্রায় ছয় লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে খরচ করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে পেয়াজের কদম সদৃশ ফুলগুলো সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাথা ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে। চোখে সরষে ফুল দেখার মত ঝড়ের পরদিন সকাল বেলা এই দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন রুহুল আমীন জানালেন স্থানীয়রা।
কৃষক রুহুল আমীন বলেন, অত্যন্ত যত্ন সহকারে পেয়াজের বীজ পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদন করতে হয়। অর্থনৈতিক ভাবে যেমন লাভজনক তেমনি সামান্য অবহেলাতেই ঘটে যেতে পারে বিপত্তি, তাই ছোট্ট শিশুর মতো আগলে রেখে করতে হয় এর চাষাবাদ। সব কিছু ঠিকই ছিল কিন্তু গত শুক্রবার রাতে ঝড়বৃষ্টি ও বড় বড় শিলার প্রভাবে আমার স্বপ্ন শেষ করে পুরো পেয়াজের বীজ ক্ষেতই নষ্ট হয়ে গেছে। আরমাত্র কটাদিন ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে আমার খরচ বাদে অতিরিক্ত প্রায় ৯/১০ লাখ টাকা লাভ হতো। এখন তো আমি পুরো পুরি পথে বসে গেলাম।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে বেশ লাভজনক এই ফসলটি ইতিমধ্যেই কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই বছর উপজেলায় ৬ হেক্টর জমিতে কালো সোনা খ্যাত এই পেয়াজের বীজ লাগানো হয়েছিলো। কিন্তু আকস্মিকভাবে ২ মিনিটের ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৫ হেক্টর বীজ ক্ষেতই ডেমেজ হয়ে পড়েছে। যাতে করে প্রায় কোটি টাকার লোকসান গুনতে হবে বলে ধারণা করছি।
জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম হওয়ায় এবার ফলন হয়েছে ভালো। প্রতিবিঘা জমিতে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার পেয়াজ বীজ বিক্রির আশা করেছিল চাষিরা।
পঞ্চগড় কৃষিবিভাগ বলছে, এ বছর ৩০ হেক্টর জমিতে জেলা জুড়ে পেয়াজ বীজ উৎপাদিত হয়েছে। কৃষকদের উন্নত চাষ পদ্ধতি অবহিত করণ ও পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান সহ সর্বপরি বীজ সার প্রদান নিশ্চিত করনের ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে অনেক কৃষক কেই লসের মুখে পড়তে হতে পারে।