রোখসানা নীলা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীর রাষ্ট্র গঠন করলে সমাজ থেকে চাঁদাবাজ, দূর্নীবাজ, লুটেরাজ বন্ধ করা হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, ফ্যাসিবাদী নীতি কায়েম করে দেশের জনগনের অধীকার হরন করার নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্র চলবে নাগরিক ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোন দল মত, বর্ণ বিবেচনায় কাউকে অধীক সুবিধা দেয়া হবে না।
আজ শুক্রবার কুমিল্লা নগরীর টাউনহল মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো অনেকে দেশে অন্যায় অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি করছে। তাদেরকেও প্রতিহত করতে হবে। সে যেই দলের হোক না কেন তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। কথা দিচ্ছি, দেশবাসিকে ছেড়ে আমরা কোথাও যাবো না, আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব ইনশাআল্লাহ। আজকে যারা অন্যায়ে লিপ্ত হচ্ছেন এক সময় আপনারাও মজলুম ছিলেন। তাই আপনাদেরকে বলতে চাই মজলুম ছিলেন কিন্ত জালিম হইয়েন না।
তিনি আরো বলেন, আমরা সমাজে ইনসাফ কায়েম করব, একজন শ্রমিক ও রিক্সা চালক অন্যায় করলে যেমন শাস্তি হবে তেমনি একজন উচ্চবিত্ত নাগরিকের ক্ষেত্রেও সেই বিধান মানতে হবে। দরকার হয় ব্যাক্তিগত ছোটখাটো ভুল ক্ষমা করা হবে, কিন্ত দেশকে নিয়ে কোন অন্যায় কাজ করা হলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। আমরা আর কোন পরিবারতন্ত্র রাজনীতি চাই না। একজন কৃষকের ছেলেও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে আমরা সেই রকম সরকার ব্যাবস্থা চাই।
মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের যদি কেউ ভয় দেখাতে আসে আপনারা সেটিতে ভয় পাবেন না। আপনারা চোখ রাঙ্গিয়ে সাহস করে বলেবন আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব। আমরা আছি আমাদের মা বোনদের পাশে। তাদের প্রতি কোন অন্যায় হলে চব্বিশের মত আবারো তারা জেগে উঠবে। শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা সব পলিসি আমার মায়েদের জন্য নেওয়া হয়েছে। মাস্টার্স পর্যন্ত আমার বোনদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হবে।
যুবকদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের কোন যুবক ভাইদেরকে ভাতা নিতে দিব না। তাদেরকে যোগ্য করে তুলব। তারা ভাতা নেয়ার জন্য তারা চব্বিশের আন্দোলন করে নাই, নতুনভাবে দেশকে মুক্ত করে নাই। আমার দেশের যুবকদের যোগ্যতা আছে, তাদের যোগ্যতা কাজে লাগাতে হবে। এমন একদিন আসবে যে, প্রত্যেকটা যুবক যুবতী সেদিন বলবে, আমরাই বাংলাদেশ। আমরা তাদেরকে সেই যোগ্যতার আসনে নিতে যেতে চাই।
এ সময় জনগনের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা দাড়িপাল্লায় ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। এই দেশকে বাঁচাতে, দেশের বিজয়কে টিকিয়ে রাখতে সবাই গণভোটে হ্যা ভোট দিবেন। হ্যা মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা আর গোলামী থাকতে চাই না। আমরা আজাদি হয়ে এই দেশকে, দেশের মানুষকে নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।
বক্তব্য শেষে কুমিল্লার ১১ টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার ১১ টি আসনের জোটের মনোনীত প্রার্থীরা।