ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার মিডিয়া কাপ টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন আমার নির্বাচনী আসনে হিন্দু মুসলিম সমান অধিকার নিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে বসবাস করবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  বাপুস এর নেতা পিন্টু মিত্রকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা : নিঃশর্ত মুক্তির দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল জব্দ অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক মাতাব্বর চরফ্যাশন আদালতের এডিশনাল পিপি সুনামগঞ্জের আটগাঁও গ্রামে ট্রলারে অশ্লীল নাচের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়; অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় জিডি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—দক্ষিণ বংশিকুন্ডাবাসীকে রায়হান উদ্দিন সোহেলের শারদীয় শুভেচ্ছা সংগীতচর্চার মধ্য দিয়েই মানবসেবা করতে চান শিল্পী রানী শেখ এলিজা প্রতিবন্ধীদেরকে দেশের সম্পদে পরিনত করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে : এস এম জিলানী গোপালগঞ্জে ৩ কর্মকর্তা- কর্মচারীর সিন্ডিকেটে জিম্মি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস; সীমাহীন ভোগান্তি

কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর জোর দাবি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:২৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবি উত্থাপন করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও মহানগর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

সোমবার ৮ জুন বিকেলে সংসদে নোটিশ আকারে উত্থাপিত এক প্রশ্নে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে এর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জনগণের সম্পত্তির ওপর কুমিল্লা বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। দেশভাগের পরও বিমানবন্দরটি চালু ছিল। তবে বিমানবন্দর নির্মাণে ব্যবহৃত জমির মালিকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। স্বাধীনতার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিমানবন্দরের সম্পত্তির একটি অংশ ইপিজেডের জন্য বরাদ্দ দিলেও বিমানবন্দর সচল রাখার নির্দেশনা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী জেলা। জেলার প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১৩ শতাংশ মানুষ প্রবাসে অবস্থান করছেন। বিমানবন্দরটি চালু হলে এসব প্রবাসী সরাসরি কুমিল্লা হয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা জনগণ ও বিমান কর্তৃপক্ষ উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।

সংসদ সদস্য আরও জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের রাডার টাওয়ার ও অন্যান্য স্থাপনা ব্যবহার করে প্রতিদিন বহু বিমান চলাচল করছে এবং এর মাধ্যমে মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমানবন্দর সংলগ্ন কুমিল্লা ইপিজেডে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা কারখানা পরিদর্শনে আসেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিমানবন্দর চালু হলে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা সহজে ইপিজেডে যাতায়াত করতে পারবেন, যা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ ভারত ও সিঙ্গাপুরে দ্রুত যাতায়াত করতে পারবেন।

এছাড়া কুমিল্লার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ হলেও কুমিল্লার বিদ্যমান বিমানবন্দরটি চালু করা হয়নি। এটি কুমিল্লার প্রতি অবজ্ঞা ও বৈষম্যের প্রতিফলন বলে মনে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুমিল্লা বিমানবন্দর দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর জোর দাবি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর

আপডেট সময় : ১০:৩২:২৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবি উত্থাপন করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও মহানগর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

সোমবার ৮ জুন বিকেলে সংসদে নোটিশ আকারে উত্থাপিত এক প্রশ্নে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে এর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জনগণের সম্পত্তির ওপর কুমিল্লা বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। দেশভাগের পরও বিমানবন্দরটি চালু ছিল। তবে বিমানবন্দর নির্মাণে ব্যবহৃত জমির মালিকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। স্বাধীনতার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিমানবন্দরের সম্পত্তির একটি অংশ ইপিজেডের জন্য বরাদ্দ দিলেও বিমানবন্দর সচল রাখার নির্দেশনা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী জেলা। জেলার প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১৩ শতাংশ মানুষ প্রবাসে অবস্থান করছেন। বিমানবন্দরটি চালু হলে এসব প্রবাসী সরাসরি কুমিল্লা হয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা জনগণ ও বিমান কর্তৃপক্ষ উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।

সংসদ সদস্য আরও জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের রাডার টাওয়ার ও অন্যান্য স্থাপনা ব্যবহার করে প্রতিদিন বহু বিমান চলাচল করছে এবং এর মাধ্যমে মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমানবন্দর সংলগ্ন কুমিল্লা ইপিজেডে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা কারখানা পরিদর্শনে আসেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিমানবন্দর চালু হলে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা সহজে ইপিজেডে যাতায়াত করতে পারবেন, যা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ ভারত ও সিঙ্গাপুরে দ্রুত যাতায়াত করতে পারবেন।

এছাড়া কুমিল্লার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ হলেও কুমিল্লার বিদ্যমান বিমানবন্দরটি চালু করা হয়নি। এটি কুমিল্লার প্রতি অবজ্ঞা ও বৈষম্যের প্রতিফলন বলে মনে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুমিল্লা বিমানবন্দর দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।