ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জাবিপ্রবিতে মানববন্ধন বাংলাদেশ সিটিজেন লিগ্যাল সাপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলেন সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেফতার ১ পঞ্চগড়ে আলোচিত আলামিন হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাইমুজ্জামান গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ ও বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর আন্দোলন শান্তিগঞ্জে দুর্গাপূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা চরফ্যাশনে ফের ৬ মাসের জন্য আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ স্থগিত অ্যাডভোকেট হিরনের দিরাইয়ে মাদক, অসামাজিক কার্যকলাপ ও কথিত পতিতালয় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন :   ৫ দফা দাবি পেশ পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দায়ী করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার্থীদের চাকরির খতিয়ান বই পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকার ও প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জে উন্মাদনার আড়ালে উদ্বেগ : হাওরপাড়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ও দুই শিবিরের লড়াই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:১২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ) : বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসতে এখনো বাকি, অথচ সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে এখনই শুরু হয়ে গেছে টানটান উত্তেজনা।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের অলিগলি—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ল্যাটিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। তবে এই ফুটবল উন্মাদনা যেখানে শুধুই বিনোদন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা রূপ নিচ্ছে এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বে।

গ্রামের ফুটবলপ্রেমীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সমর্থকদের মাঝে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। হিসাব কষলে দেখা যায়: আর্জেন্টিনা সমর্থক ৭০% (সিংহভাগ গ্রামের মানুষই আকাশি-সাদা জার্সির ভক্ত)।
ব্রাজিল সমর্থক ২৮% (হলুদ-সবুজ শিবিরের কড়া সমর্থক)।
অন্যান্য দল মাত্র ২% (যারা মূলত পর্তুগাল, ফ্রান্স বা জার্মানি সমর্থন করেন এবং দুই দলের তুমুল তর্কের মাঝে ভিন্ন রকম আনন্দ খোঁজেন)।
খেলা চলাকালীন স্থানীয়দের আবেগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যা অনেক সময় সাধারণের বোধগম্য হয় না। হাওরপাড়ের অনেক প্রবীণ ও সচেতন মানুষের সাথে আলোচনা করলে এক অদ্ভুত বাস্তবতার চিত্র ফুটে ওঠে। তাদের মতে, খেলার সময় মানুষের মন থেকে যেন উবে যায় নিজস্ব ভৌগোলিক পরিচয়।
খেলা যখন চলে, তখন মনেই থাকে না আমরা কোন দেশে বাস করছি। মনে হয় আমরা বাংলাদেশ নয়, বরং ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনায় বাস করছি!” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা
গ্রামের এই অতি-উৎসাহ মাঝে মাঝে রূপ নেয় বিষাদে। বিগত দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ঘেঁটে দেখা গেছে, চায়ের দোকানের সাধারণ তর্কবিতর্ক থেকে শুরু করে হাতাহাতি, এমনকি মারামারির মতো অপ্রত্যাশিত ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। এক দলের হার ও অন্য দলের জয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বৈরিতা গ্রামের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে।
স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া: বিনোদন বনাম সতর্কতা
খেলা নিয়ে এই বাড়াবাড়িকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না এলাকার অনেক সচেতন নাগরিক। কেউ কেউ স্পষ্ট করেই বলছেন, ফুটবল একটা বৈশ্বিক খেলা এবং এটি শুধুই বিনোদনের মাধ্যম। অতি-উৎসাহী হয়ে কারও সাথে বিবাদে জড়ানো বা মন্দ কিছু করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
তবে ফুটবলকে উৎসবের আমেজে দেখার পক্ষেও আছেন অনেকে। গ্রামের ফুটবলপ্রেমী মমিন আলী জানান ভিন্ন এক অনুভূতির কথা। তার মতে, একা একা খেলা দেখার মাঝে কোনো সার্থকতা নেই।
হাওরপাড়ের মানুষের জীবনে বিনোদনের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। তাই ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে বিনোদনের এই আনন্দ যেন ঘরের শত্রুতা বা অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ না নেয়, সেদিকে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। খেলা হোক সম্প্রীতির, হানাহানির নয়—এমনটাই প্রত্যাশা সুনামগঞ্জের সচেতন মহলের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুনামগঞ্জে উন্মাদনার আড়ালে উদ্বেগ : হাওরপাড়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ও দুই শিবিরের লড়াই

আপডেট সময় : ০৮:০৩:১২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ) : বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসতে এখনো বাকি, অথচ সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে এখনই শুরু হয়ে গেছে টানটান উত্তেজনা।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের অলিগলি—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ল্যাটিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। তবে এই ফুটবল উন্মাদনা যেখানে শুধুই বিনোদন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা রূপ নিচ্ছে এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বে।

গ্রামের ফুটবলপ্রেমীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সমর্থকদের মাঝে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। হিসাব কষলে দেখা যায়: আর্জেন্টিনা সমর্থক ৭০% (সিংহভাগ গ্রামের মানুষই আকাশি-সাদা জার্সির ভক্ত)।
ব্রাজিল সমর্থক ২৮% (হলুদ-সবুজ শিবিরের কড়া সমর্থক)।
অন্যান্য দল মাত্র ২% (যারা মূলত পর্তুগাল, ফ্রান্স বা জার্মানি সমর্থন করেন এবং দুই দলের তুমুল তর্কের মাঝে ভিন্ন রকম আনন্দ খোঁজেন)।
খেলা চলাকালীন স্থানীয়দের আবেগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যা অনেক সময় সাধারণের বোধগম্য হয় না। হাওরপাড়ের অনেক প্রবীণ ও সচেতন মানুষের সাথে আলোচনা করলে এক অদ্ভুত বাস্তবতার চিত্র ফুটে ওঠে। তাদের মতে, খেলার সময় মানুষের মন থেকে যেন উবে যায় নিজস্ব ভৌগোলিক পরিচয়।
খেলা যখন চলে, তখন মনেই থাকে না আমরা কোন দেশে বাস করছি। মনে হয় আমরা বাংলাদেশ নয়, বরং ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনায় বাস করছি!” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা
গ্রামের এই অতি-উৎসাহ মাঝে মাঝে রূপ নেয় বিষাদে। বিগত দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ঘেঁটে দেখা গেছে, চায়ের দোকানের সাধারণ তর্কবিতর্ক থেকে শুরু করে হাতাহাতি, এমনকি মারামারির মতো অপ্রত্যাশিত ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। এক দলের হার ও অন্য দলের জয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বৈরিতা গ্রামের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে।
স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া: বিনোদন বনাম সতর্কতা
খেলা নিয়ে এই বাড়াবাড়িকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না এলাকার অনেক সচেতন নাগরিক। কেউ কেউ স্পষ্ট করেই বলছেন, ফুটবল একটা বৈশ্বিক খেলা এবং এটি শুধুই বিনোদনের মাধ্যম। অতি-উৎসাহী হয়ে কারও সাথে বিবাদে জড়ানো বা মন্দ কিছু করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
তবে ফুটবলকে উৎসবের আমেজে দেখার পক্ষেও আছেন অনেকে। গ্রামের ফুটবলপ্রেমী মমিন আলী জানান ভিন্ন এক অনুভূতির কথা। তার মতে, একা একা খেলা দেখার মাঝে কোনো সার্থকতা নেই।
হাওরপাড়ের মানুষের জীবনে বিনোদনের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। তাই ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে বিনোদনের এই আনন্দ যেন ঘরের শত্রুতা বা অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ না নেয়, সেদিকে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। খেলা হোক সম্প্রীতির, হানাহানির নয়—এমনটাই প্রত্যাশা সুনামগঞ্জের সচেতন মহলের।