শাল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে অপপ্রচারের শিকার বিএনপি নেতা, আইনি পদক্ষেপের দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:১৮:৪৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ১৪ আগস্ট দুপুরে শাল্লা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মো. আব্দুল করিম। তিনি বলেন, “আমার পিতা জীবিত থাকাকালে মন্নানপুর গ্রামের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে ‘মন্নানপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ০.৪২ একর (৪২ শতক) জমি দলিলের মাধ্যমে দান করেন। তবে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি উক্ত জমি প্রাপ্তির পর দীর্ঘ দিনেও সেখানে কোনো অবকাঠামো তৈরি করেনি।”
তিনি আরও জানান, আনুমানিক ৬-৭ বছর আগে দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে ও শ্রেণি পাঠদানের অনুমতির জন্য শিক্ষকদের অনুরোধে তাদের বসতভিটির পাশে একটি অস্থায়ী বাঁশ-টিনের ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে তেমন কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ২০২৪ সালে কালবৈশাখী ঝড়ে পরিত্যক্ত ঘরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আব্দুল করিম আরও উল্লেখ করেন, “৩-৪ বছর আগে আমরা উক্ত বসতভিটিটি বিক্রি করে দিই এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে তাদের নিজস্ব জমিতে ঘর স্থানান্তরের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি নতুন ক্রেতা সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করলে, দামপুর গ্রামের আমীর হুসাইন নামের এক ব্যক্তি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় শাল্লা থানা পয়েন্টে আমীর হুসাইনের সাথে আমার দেখা হলে সে অহেতুক আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও সেখানে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। কিন্তু এরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি সাজানো ঘটনা দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের সম্পূর্ণ কাল্পনিক অভিযোগ এনে থানায় লিখিত ডায়েরি করা হয়। অথচ উক্ত ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিতই ছিলাম না।”
তিনি এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির ক্রেতা জাবুল মিয়া বলেন, “আমি আব্দুল করিমের কাছ থেকে জমি কিনে ঘর তৈরি শুরু করলে আমীর ও ফারুক এসে বাধা দেয়। তারা আমাকে ভয় দেখিয়ে বলে, আমি যদি আব্দুল করিমের নাম ব্যবহার করে বলি যে সে মাদরাসা ভেঙেছে, তবেই কেবল ঘর বানাতে পারবো। আর তা না করলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় আমাকে মামলায় আসামি করা হবে। চাঁদা দাবির এ ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান।



















