ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার মিডিয়া কাপ টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন আমার নির্বাচনী আসনে হিন্দু মুসলিম সমান অধিকার নিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে বসবাস করবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  বাপুস এর নেতা পিন্টু মিত্রকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা : নিঃশর্ত মুক্তির দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেয়ারডিল জব্দ অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক মাতাব্বর চরফ্যাশন আদালতের এডিশনাল পিপি সুনামগঞ্জের আটগাঁও গ্রামে ট্রলারে অশ্লীল নাচের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়; অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় জিডি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—দক্ষিণ বংশিকুন্ডাবাসীকে রায়হান উদ্দিন সোহেলের শারদীয় শুভেচ্ছা সংগীতচর্চার মধ্য দিয়েই মানবসেবা করতে চান শিল্পী রানী শেখ এলিজা প্রতিবন্ধীদেরকে দেশের সম্পদে পরিনত করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে : এস এম জিলানী গোপালগঞ্জে ৩ কর্মকর্তা- কর্মচারীর সিন্ডিকেটে জিম্মি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস; সীমাহীন ভোগান্তি

কুমিল্লায় কুসিকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি : ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধ, এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বাড়াতে সারাদেশে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী জাতীয় কর্মসূচি ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) উদ্যোগে নগরীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট এলাকাকে একযোগে যুক্ত করে তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই কুমিল্লাতেও জাতীয় এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। এ উপলক্ষে সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি উদ্বোধনী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

র‌্যালি শেষে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নগরীর ছোটরা, মফিজাবাদ কলোনি, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পরিত্যক্ত বস্তু ও মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থান পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এমন বিভিন্ন স্থান চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার ও ধ্বংস করা হয়। নগরীর নালা-নর্দমা, ড্রেন, জমে থাকা পানি এবং অপরিচ্ছন্ন স্থানগুলোতেও বিশেষ নজর দেয়া হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নগরবাসীর প্রতি নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, নির্মাণসামগ্রীর পাত্রসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

অভিযান শেষে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঘোষণা করেছেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও আজ থেকে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।”

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

কুসিক প্রশাসক আরও বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা চাইলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।” নগরবাসীকে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় পরিচ্ছন্নতা অভিযান সরেজমিনে তদারকি করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূইয়া, মাঈন উদ্দিন চিশতী, সহকারী প্রকৌশলী আবু ইউসুফসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতারা।

কুসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

তারা বলেন, সাধারণত এডিস মশা স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না; একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

কুসিক কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী তিন মাসের ধারাবাহিক এ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীতে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কমে আসবে এবং নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় কুসিকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি : ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধ, এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বাড়াতে সারাদেশে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী জাতীয় কর্মসূচি ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) উদ্যোগে নগরীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট এলাকাকে একযোগে যুক্ত করে তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই কুমিল্লাতেও জাতীয় এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। এ উপলক্ষে সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি উদ্বোধনী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

র‌্যালি শেষে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নগরীর ছোটরা, মফিজাবাদ কলোনি, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পরিত্যক্ত বস্তু ও মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থান পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এমন বিভিন্ন স্থান চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার ও ধ্বংস করা হয়। নগরীর নালা-নর্দমা, ড্রেন, জমে থাকা পানি এবং অপরিচ্ছন্ন স্থানগুলোতেও বিশেষ নজর দেয়া হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নগরবাসীর প্রতি নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, নির্মাণসামগ্রীর পাত্রসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

অভিযান শেষে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঘোষণা করেছেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও আজ থেকে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।”

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

কুসিক প্রশাসক আরও বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা চাইলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।” নগরবাসীকে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় পরিচ্ছন্নতা অভিযান সরেজমিনে তদারকি করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূইয়া, মাঈন উদ্দিন চিশতী, সহকারী প্রকৌশলী আবু ইউসুফসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতারা।

কুসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

তারা বলেন, সাধারণত এডিস মশা স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না; একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

কুসিক কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী তিন মাসের ধারাবাহিক এ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীতে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কমে আসবে এবং নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।