ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জাবিপ্রবিতে মানববন্ধন বাংলাদেশ সিটিজেন লিগ্যাল সাপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলেন সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ ময়মনসিংহে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেফতার ১ পঞ্চগড়ে আলোচিত আলামিন হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাইমুজ্জামান গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ ও বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর আন্দোলন শান্তিগঞ্জে দুর্গাপূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা চরফ্যাশনে ফের ৬ মাসের জন্য আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ স্থগিত অ্যাডভোকেট হিরনের দিরাইয়ে মাদক, অসামাজিক কার্যকলাপ ও কথিত পতিতালয় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন :   ৫ দফা দাবি পেশ পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দায়ী করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার্থীদের চাকরির খতিয়ান বই পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকার ও প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

গবেষণার সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে : ইউজিসি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাংগাইল প্রতিনিধি : গবেষণায় প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এর সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসাইন।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ গবেষকদের আরও বেশি করে গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। গবেষণার ফলাফল মানসম্মত জার্নালে প্রকাশের পাশাপাশি তা যেন মানুষের বাস্তব জীবনে কাজে লাগে, সেদিকেও গবেষকদের গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘From Research Idea to Q1 Journal Publication’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সেমিনার কক্ষে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আইসিটি বিভাগের Sub-project PIN: C-53, ICSETEP-এর উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।

ইউজিসি সদস্য বলেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও একাডেমিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু গবেষণা করলেই হবে না; গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণাপদ্ধতি, ফলাফল বিশ্লেষণ ও প্রকাশনা—প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, Q1 জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নতুন ও সময়োপযোগী গবেষণা ধারণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনার মানদণ্ড সম্পর্কেও গবেষকদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। গবেষণার ফলাফল যেন শুধু জার্নালের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের প্রয়োজন মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—এ বিষয়ে গবেষকদের সচেতন হতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাভাবিপ্রবির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. আনিছুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন কথা বলতে পারার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞানের মূল ভিত্তি ও নৈতিকতার জায়গা শক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, “জ্ঞানের মাস্তান সবচেয়ে বড় মাস্তান।”

তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। একটি বড় ঐতিহাসিক বা ভূতাত্ত্বিক ঘটনার চেয়েও একটি নতুন ধারণা পৃথিবীকে অধিক পরিবর্তন করতে পারে। নতুন চিন্তা, জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব।

 

প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “মাভাবিপ্রবিকে একটি গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ কনফিগারেশনের কম্পিউটারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ কারণে এ খাতে গবেষণার পরিধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোলাবোরেশন এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। তিনি রুয়েটের রিসার্চ সেলের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান, আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মনির মোর্শেদ, আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসাইন।

সেমিনারের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ICSETEP-এর Sub-project PIN: C-53-এর Co-PI প্রফেসর ড. মোছা. নার্গিস আক্তার। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন একই প্রকল্পের Principal Investigator (PI) ড. নজরুল ইসলাম।

সেমিনারে গবেষণার উপযোগী ধারণা নির্বাচন, গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি, Q1 জার্নাল নির্বাচন, গবেষণাপত্রের কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গবেষণার সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে : ইউজিসি

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাংগাইল প্রতিনিধি : গবেষণায় প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এর সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসাইন।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ গবেষকদের আরও বেশি করে গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। গবেষণার ফলাফল মানসম্মত জার্নালে প্রকাশের পাশাপাশি তা যেন মানুষের বাস্তব জীবনে কাজে লাগে, সেদিকেও গবেষকদের গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘From Research Idea to Q1 Journal Publication’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সেমিনার কক্ষে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আইসিটি বিভাগের Sub-project PIN: C-53, ICSETEP-এর উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।

ইউজিসি সদস্য বলেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও একাডেমিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু গবেষণা করলেই হবে না; গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণাপদ্ধতি, ফলাফল বিশ্লেষণ ও প্রকাশনা—প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, Q1 জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নতুন ও সময়োপযোগী গবেষণা ধারণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনার মানদণ্ড সম্পর্কেও গবেষকদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। গবেষণার ফলাফল যেন শুধু জার্নালের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের প্রয়োজন মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—এ বিষয়ে গবেষকদের সচেতন হতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাভাবিপ্রবির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. আনিছুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন কথা বলতে পারার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞানের মূল ভিত্তি ও নৈতিকতার জায়গা শক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, “জ্ঞানের মাস্তান সবচেয়ে বড় মাস্তান।”

তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। একটি বড় ঐতিহাসিক বা ভূতাত্ত্বিক ঘটনার চেয়েও একটি নতুন ধারণা পৃথিবীকে অধিক পরিবর্তন করতে পারে। নতুন চিন্তা, জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব।

 

প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “মাভাবিপ্রবিকে একটি গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ কনফিগারেশনের কম্পিউটারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ কারণে এ খাতে গবেষণার পরিধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোলাবোরেশন এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। তিনি রুয়েটের রিসার্চ সেলের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান, আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মনির মোর্শেদ, আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসাইন।

সেমিনারের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ICSETEP-এর Sub-project PIN: C-53-এর Co-PI প্রফেসর ড. মোছা. নার্গিস আক্তার। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন একই প্রকল্পের Principal Investigator (PI) ড. নজরুল ইসলাম।

সেমিনারে গবেষণার উপযোগী ধারণা নির্বাচন, গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি, Q1 জার্নাল নির্বাচন, গবেষণাপত্রের কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।