‘হৃদরোগের সতর্ক সংকেত উপেক্ষা নয়, সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষা’
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : “হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট: ডোন্ট মিস এ বিট”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২৬।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে কুমিল্লা হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী নারী সংগঠন ইনার হুইল বাংলাদেশের সাবেক ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান ও ইনার হুইল ক্লাব অব কুমিল্লার চার্টার প্রেসিডেন্ট ডা. মল্লিকা বিশ্বাস, পিডিজি আব্দুল আউয়াল, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্টের সাবেক জেলা গভর্নর এম এ আউয়াল এবং পিডিজি সাবেক ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর এম এ আহাদ।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, আইনজীবী, অধ্যাপক, সাংবাদিক, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, হৃদরোগের অনেক লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা দৈনন্দিন কাজের সময় সামান্য অস্বস্তিকেও অবহেলা করা উচিত নয়। এ সব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
বক্তারা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, হৃদরোগ শুধু বয়স্কদের সমস্যা—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও ধূমপানের মতো ঝুঁকির কারণে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ছে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পর্যায়ে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, ওজনসহ হৃদরোগের বিভিন্ন ঝুঁকি শনাক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে।
এ সময় হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘ডোন্ট মিস এ বিট’—হৃদযন্ত্রের কোনো সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করা যাবে না। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা শেষে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ জীবনযাপনের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ব হার্ট দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে কুমিল্লায় হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সুস্থ জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়।



















