রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে সাংবাদিক ফয়সল মিয়াকে হয়রানির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:১৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক মো. ফয়সল মিয়া। তিনি হবিগঞ্জ জেলা ব্যুরো চিফ, দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি এবং ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ফয়সল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, একসময় তিনি হবিগঞ্জ পৌর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০২৩ সালে নিজ ফেসবুক আইডি এবং জেলা কৃষক লীগের কাছে আবেদন করে স্বেচ্ছায় ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ফয়সল মিয়া আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর অনেক আগেই জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। ফলে আন্দোলনের সময় তিনি বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন না বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে ২০২৬ সালে দেশে ফেরার পর থেকেই একটি মহল তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তার অতীতের রাজনৈতিক পদকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক ফয়সল মিয়া বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং আন্দোলনের সময় দেশে না থাকলেও তাকে বিগত সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের হয়রানি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী। আইন ও আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে।” ২০২৩ সালে রাজনীতি থেকে পদত্যাগ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের আগে বিদেশে চলে যাওয়ার পর ২০২৬ সালে দেশে ফেরার প্রেক্ষাপটে তাকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোর অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
এ সময় সাংবাদিক ফয়সল মিয়া তার বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ ও হয়রানির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি থেকে মুক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।



















