ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের আলিয়ার বাকড়ী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশ দিয়ে পোড়া বাকড়ী যাবার সংযোগ সড়কের দু’পাশের সরকারি জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মার্ণের কারণে রাস্তার মধ্যে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভারি বর্ষণে পুরো রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এক কথায় রাস্তার মধ্যে মাজা সমান পানি। জনভোগান্তির কথা তোয়াক্কা না করে দু’পাশের রাস্তার জমি দখল করে গৃহ নির্মাণ করেছে মিন্টু ও পিন্টু খন্দকার। মিন্টু পিন্টু খন্দকারের গৃহ নির্মাণের ফলে পূর্বে যে পানি বাহির হওয়ার ড্রেন ছিল তা বন্ধ হয়ে এমন জলবদ্ধতা তৈরি হয়েছে যে এই মোড়ে রাস্তার উপর হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যাচ্ছে। এই জমে যাওয়ার ফলে এই পাড়ার ২ শতাধিক পরিবার সহ প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে হাজার, হাজার মানুষের যাতায়াতের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কারণে এই রাস্তার সমস্যার কারণে শিশুরা এই কাঁদা পানি পার হয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। প্রায় বছর তিনেক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ প্রসঙ্গে তেমন কোন কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি। এ অবস্থায় এলাকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এক কথায় পানিবন্দী পুরো গ্রামবাসী। এ বিষয়ে আলিলিয়ার বাকড়ী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নবের আলী শেখ বলেন, এই রাস্তা দখল করে বাড়ি বানানোর কারণে পানি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে এই পাড়ার ২ শতাধিক পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। আমরা চাই সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে পানি যাওয়ার ড্রেন করে দিলেই এই জলবদ্ধতার সমাধান হয়ে যায়। তাতে হাজারো মানুষের ভোগান্তি আর থাকে না। জলাবদ্ধতার বিষয়ে ভুক্তভোগী বিপুল মিয়া বলেন, মোড়ের এই রাস্তা পূর্বে ৩০ লিংক মত ছিল বর্তমানে রাস্তা ১৫ লিংকে পরিণত হয়েছে। ১৫ লিংক সরকারি জমি দখলমুক্ত করে পাশ দিয়ে ড্রেন করে দিলেই আমরা এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাই। আমরা ময়লা, পচা, নোংরা পানির মধ্যে বসবাস করছি। নোংরা পানির কারণে আমরা ঠিকমতো অজু করে নামাজ পড়তে পারছিনা।
এছাড়া স্থানীয় এক অটো চালক জানান, অটো এবং ব্যাটারী চালিত ভ্যান ব্যাটারীতে পরিচালিত হয়। এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যান এবং অটো ব্যাটারিতে পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে আমাদের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর দায়-দায়িত্বকে নেবে।
পানিবন্দী বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ বলেন, রাস্তাটা এতোটাই পানি থাকে যে কোন ভালো কাপড়চোপড় পড়ে বাইরে যেতে পারিনা। সরকারি জায়গা উদ্ধার করে আমাদের পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিক সরকার।
এই প্রসঙ্গে বাড়ি নির্মাণকারি পিন্টু খন্দকার এর কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাস্তা আগে ৩০ লিংক ছিল এখন ১৪-১৫ লিংক আছে। তবে আমরা রাস্তার জায়গা দখল করিনি। আমাদের বিপরীত পাশে হয়তো জমি পেতে পারে। তিনি আরো বিকল্প পথে পানির জলবদ্ধতা নিষ্কাশনের পথ দেখান। কিন্তু সেখান দিয়ে তার জায়গা আছে এবং অপরের জায়গায় ৫০ ফিট ড্রেন করতে হবে। ওই ব্যক্তি ড্রেন করতে রাজি না হওয়াতে বিকল্প পথে পানি বের হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বদরুল হাসান লালুর সাথে কথা বললে সে বলে আমি সবাইকে ইউনিয়ন পরিষদে এসে অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলে ইউনিয়ন পরিষদ একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাছাড়া রাস্তার জায়গায় কতখানি আমি তা জানি না। ইউনিয়ন পরিষদের সার্ভেয়ার দিয়ে রাস্তার জায়গা মাপার কথা বললে সে এ ব্যাপারে কোন উত্তর দিতে পারেনি। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে সরকার যদি রাস্তার পানি নিষ্কাশন না করলে আগামীকাল তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কাছে যাবে।সেখানে যদি কোন সমাধান না হয় তাহলে সরকারি জমি উদ্ধারের দাবিতে গ্রামবাসী মানববন্ধন করবে।