মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের পুরাতন গুদীগাঁও গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশী ব্যক্তিত্ব ও এক নারীসহ দুইজনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
২৮ নভেম্বর (শুক্রবার ) সকাল সাড়ে ১১ টায় গুদীগাঁও গ্রামের সরকারি রাস্তায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
আহতরা বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন, সালিশী ব্যক্তিত্ব ও জাহাঙ্গীরনগর প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি ফারুক মিয়া (৪২) ও তার স্ত্রী জায়েদা খাতুন (৩৫)। বুধবার রাত অনুমান ১০টার দিকে গুদীগাঁও গ্রামের ফাতেমা বেগমের বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আলী মিয়ার ছেলে মোস্তাক মিয়া ও তার আপন বোন ফাতেমা বেগমের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম্য সালিশ বসে। পরবর্তী শনিবার দিনে পুনরায় সালিশ বসার সিদ্ধান্ত হওয়ায় সবাই বাড়ি ফিরে যান। তবে প্রতিবন্ধী ফারুক মিয়া তখনও ফাতেমা বেগমের ঘরে কথা বলছিলেন। এ সময় পাশের ঘর থেকে মোস্তাক মিয়া এসে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। এক পর্যায়ে মোস্তাকের নাতি নয়ন মিয়া দৌঁড়ে এসে ফারুক মিয়াকে পালং থেকে টেনে হেঁচড়ে বারান্দায় নিয়ে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
এ খবর পেয়ে ফারুকের স্ত্রী জায়েদা খাতুন ক্ষোভে মোস্তাক মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করলে সেখানেও তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোস্তাক মিয়া বলেন, সালিশ শেষে সবাই চলে গেলেও ফারুক আমার বোনের ঘরে বসে মামলার পরামর্শ দেয়। পরে আমি প্রতিবাদ করলে সেও আমাকে গালমন্দ করার এক পযার্য়ে আমার নাতি গিয়ে তাকে শার্টের কলারে ধরে টানা হেচড়া করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কিছুক্ষণ পর ফারুকের স্ত্রী আমার বাড়িতে এসে গালাগাল করলে আমি তাকে একটি লাঠি দিয়ে বারি দেই।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোস্তাক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪০), নাতি নয়ন মিয়া (১৮) ও তুহিন মিয়া (১৭) মিলে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি ফারুক মিয়ার স্ত্রী স্বাস্থ্যকর্মী জাহেদা বেগমের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত ও জখম প্রাপ্ত করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ, মো. সিরাজ মিয়া, আলী আকবর, আব্দুর রহীম, আব্দুল মনাফ, হোসেন আলী, নূরু মিয়াসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা।