মোঃ তানভীর আজাদ
অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনা, মৌলিক অধিকার ও সত্য কথা বলার স্বাধীনতার পক্ষে যে লড়াই–সংগ্রাম—তারই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাঙালি জাতি পেয়েছিল বিজয়ের স্বাদ, অর্জন করেছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র—বাংলাদেশ।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি সত্যিই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি?
আজও তো আমরা বৈষম্যের শিকার। বিজয় ও স্বাধীনতা কি কেবল এলিট শ্রেণির হাতে বন্দি হয়ে পড়েনি? গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ কিংবা শহরের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ আজও কি তার ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পেরেছে?
বাস্তবতা হলো—সাধারণ জনগণের জন্য আইন এক রকম, আর বিত্তশালীদের জন্য আরেক রকম। সরকার যখন যার হাতে, ক্ষমতাও তখন তার হাতেই কেন্দ্রীভূত। সরকারের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলতে গেলেই একজন নাগরিক যেন ‘ভিনগ্রহের মানুষ’ হয়ে যায়। আজও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে যারা সরকারে আসে, তারাই যেন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে ওঠে; আর বাকি জনগণ থেকে যায় প্রজার ভূমিকায়।
রাষ্ট্রের প্রায় সব কাঠামো এখন পেশাদার রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী শ্রেণির হাতে বন্দি। সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার আজও প্রতিষ্ঠা পায়নি। এর দায় কেবল শাসকগোষ্ঠীর নয়—সাধারণ জনগণের দায়ও এখানে রয়েছে। কারণ বহু সময় ভোটের মাঠে বিবেক বিক্রি হয়েছে টাকার কাছে। কখনো জনগণকে জিম্মি করা হয়েছে ভয় ও চাপের মাধ্যমে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে আজও আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয় তথাকথিত ‘সুশীল সমাজ’-এর দিকে। কিন্তু প্রকৃত নেতৃত্বের সংকট রয়ে গেছে। একজন গ্রহণযোগ্য জাতীয় অভিভাবক, একজন সর্বজনস্বীকৃত রাজনৈতিক নেতা—এমন নেতৃত্ব আমরা আজও খুঁজে পাইনি।
২০২৫ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনের অপেক্ষায় যখন জাতি, ঠিক তখনই আলোচনায় ১৩ তম জাতীয় নির্বাচনের দামামা। প্রশ্ন উঠছে—এই মুহূর্তে নির্বাচনই কি রাষ্ট্রের সব সংকটের সমাধান? নাকি সাধারণ মানুষ আবারও নিরুপায় দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে?
স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও আমরা অপেক্ষায়—কবে বাস্তবায়িত হবে শস্য-শ্যামল সোনার বাংলার স্বপ্ন? মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে স্বপ্ন বাঙালি দেখেছিল, সেই স্বপ্ন কবে পূর্ণতা পাবে?
তবুও আশা হারায় না মানুষ। বিজয়ের মাসে আমরা বিশ্বাস করতে চাই—জনগণের বিজয়ই হবে চূড়ান্ত বিজয়। সেই স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়িত হবেই।
মোঃ তানভীর আজাদ
প্রকাশক
Daily News10 Online