মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউপির অসহায় এক পরিবারের নারীদের উ
ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি শুধু নির্যাতন নয়, তাদের ঘর বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে তাদের বসত ঘর পুড়িয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়া করার ঘোরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীরা থানায় মামলা করলেও আসামীদের হুমকিতে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী সাজেদা বেগমসহ তার মেয়েরা তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘরে ফেরার আকুতি ও আসামীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এ সময় রিতা আক্তারের মা সাজেদা বেগম, আনোয়ারা, জাহানারাসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে রিতা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এলাকার তবিবর রহমান, মোজাফ্ফর হোসেন, মজিববরসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের জায়গা জমি ও পারিবারিক সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ ঘটিয়ে আসছেন। তারা আমার অসহায় মা, আমার ও বোনদের ক্ষতিসহ বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করতে ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছেন। এমনকি চলতি সালের গত ২৭ জানুয়ারী গভীর রাতে তবিবর রহমানের নেতৃত্বে বেআইনিভাবে দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে হামলা করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুরসহ পেট্রোল দিয়ে ঘরে আগুন দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। ঘরে অগ্নিকান্ড ঘটিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়িয়ে ৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি করেছে তারা। আমরা ভয়ে ঘটনাস্থল হতে কোনভাবে প্রাণে বাঁচলেও ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তাদের হুমকিতে বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। বাধ্য হয়ে বাইরে থাকলেও তারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় আমরা উপায়ন্তর না পেয়ে পরের দিন ১৩জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করি।
মামলা অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন, তবিবর রহমান (৪৬), মোজাফ্ফর হোসেন (৩৮), মজিবর রহমান (৫০), হারুন (৪০), শাকিল (১৯) প্রমুখ। এদের মধ্যে বাংলাবান্ধা ধাইজান এলাকার মৃত নজিরবদ্দীনের ছেলে তবিবর রহমান, একই ইউনিয়নের ঝাড়–য়াপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে মোজাফ্ফর হোসেন, মৃত নজিবদ্দীনের ছেলে মজিবর রহমান, হারুন ও তবিবর রহমানের ছেলে শাকিলসহ অনেকে। এসব আসামীরা বারবার আমাদের ক্ষতি করতে চেষ্টা করছে। থানা ও আদালতে মামলা করলেও তারা বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত হয়ে ভুক্তভোগী নারী রিতা আরও জানায়, তবিবর রহমান এলাকার মাদক স¤্রাট। সে বিভিন্নভাবে মাদক বিক্রি করে এলাকা যুব সমাজের কাছে। এই তবিবর রহমান আমাদের পরিবারের উপর মানসিকভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে, মাদক দিয়ে ফাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার ও তাদের গংদের অত্যাচারে আমরা আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া হয়ে ভাড়া বাড়িতে রয়েছি। আমার প্রতিবন্ধী বোন, অসহায় মা ও অন্যান্য বোনদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। আমরা কি বিচার পাব না। আমরা কি নিরাপত্তা নিয়ে ঘরে ফিরে শান্তিতে থাকতে পাবো না। আমরা তো নারী। ঘরে পুরুষ নেই। আমরা নিরাপত্তা চাই। তাই প্রশাসন ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বাড়িতে ফিরে শান্তিতে বসবাস করতে চাই-বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তারা।
তবে সরেজমিনে বিষয়টি জানতে অভিযুক্তদের পরিবারের সাথে কথা বললে তারা জানান এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তারাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বরঞ্চ এই পরিবারটি মামলাবাজ। তারা দেহ ব্যবসায়ী ও মাদক বিক্রি করে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে তারা মামলা করার হুমকি দেয়। এমনকি মামলা দিয়েছে। এছাড়া তারা গ্রামের অনেক লোকের নামে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। যারা প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। এদের অত্যাচারে গ্রামের মানুষ আজ অতিষ্ঠ।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত থানায় মামলা রয়েছে।