মোঃ জহিরুল ইসলাম : সাভারের আমিনবাজার এলাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি দখলের একটি বড় অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছেন আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান। তার দৃঢ়তা, সততা ও কঠোর অবস্থানের কারণে প্রায় এক একর সরকারি জমি উদ্ধার হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাউন্দিয়া মৌজার সরকারি জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি ভূমিদস্যু চক্র ২০২৪ সালে ৩১৫/২৪ নম্বর মিস মামলা দায়ের করে। তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ৯৮৮ নম্বর একটি ভুয়া খতিয়ান আদালতে উপস্থাপন করে।
তদন্তে উঠে আসে, সরকারি রেকর্ডে জমির পরিমাণ ১৪৬ শতাংশ থাকলেও জাল খতিয়ানে তা ২৪৬ শতাংশ দেখানো হয়। এই ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি খতিয়ান সংশোধনের আদেশ নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত প্রায় এক একর জমি নিজেদের নামে নামজারি করে নেয় প্রতারকচক্র।
বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বিষয়টি নজরে আসে শাহাদাত হোসেন খান-এর। তিনি দ্রুত তদন্ত শুরু করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
এ সময় প্রভাবশালী চক্রটি বিভিন্নভাবে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। এমনকি ম্যানেজ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যান।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান-এর তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উপস্থাপিত খতিয়ানটি সম্পূর্ণ জাল। পরে আদালত পূর্বের আদেশ বাতিল করে জাল খতিয়ান রেকর্ড থেকে অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট সব নামজারি বাতিলের নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুম শাখার মাধ্যমে সঠিক খতিয়ান অনলাইনে সংযুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারসমূহ হালনাগাদ করা হয়।
অবশেষে গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শাহাদাত হোসেন খান এবং মো: মনিরুজ্জামান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেন এবং সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করে সরকারি দখল নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “প্রতারণা করে কেউ কখনো স্থায়ীভাবে লাভবান হতে পারে না। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই—আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভূমিদস্যু ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”