শিরোনাম :
সাংবাদিক সাখাওয়াত হাফিজের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন টেকনাফে রাসেল নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসী  হাওরে কৃষকদের সুরক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সহায়তা চাইলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল পঞ্চগড়ে এআই দিয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মানববন্ধন   বিষ ফসল দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা  পঞ্চগড় হাটবাজারে গম ৪০ কেজি স্থলে ৪৬ কেজিতে মণে বিক্রি ইউপি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, উঠছে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে অমিত শাহ’র রোড শো  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়ন্তিকা ব্যানার্জির সমর্থনে প্রচারে অভিনেতা দেব বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ২৪ হাজার ইউএস ডলারসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন, শেষ দিনে শতশত মানুষ নিয়ে পথযাত্রা

Reporter Name / ২৩৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

মো: মফিদুল ইসলাম সরকার, রংপুর প্রতিনিধি : সোমবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া টানা ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকালে শত শত মানুষ নিয়ে পথযাত্রা বের হয়ে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূর্ণরায় তিস্তা রেল সেতুতে কাছে এসে শেষ হয়েছে।
রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি পালন করছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’।
সোমবার ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয়রা। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দাবি বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে তিস্তার দুঃখ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিস্তা নদী বেষ্টিত লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১১টি পয়েন্টে সমাবেশ, পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি। রংপুরের কাউনিয়া রেলসেতু ও গঙ্গাচড়া মহিপুর বাজার-সংলগ্ন তিস্তা নদীর বুকে রংপুরের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সকালে মহিপুর তিস্তায় গিয়ে দেখা যায়, কর্মসূচিকে ঘিরে বড় বড় প্যান্ডেল করা হয়েছে। এর মধ্য একটি সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য, একটি রাত্রি যাপনের এবং একটি খাবার তৈরি ও পরিবেশনের।

গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিবুর রহমান বলেন, ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুর নেতৃত্বে টানা ৪৮ ঘণ্টার আন্দোলন কর্মসূচি করা হচ্ছে । এ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে পারব, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না। লালমনিরহাট কালিগঞ্জের আনিছুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের রাত্রিযাপনের প্যান্ডেল, সমাবেশ ও বিনোদনের জন্য মঞ্চ তৈরি, পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে , পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে । এ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার যদি তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করে তবে লাগাতার কর্মসূচি চলবে।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নয়। এটি রংপুর বিভাগবাসীর আন্দোলন। এই আন্দোলন জনদাবিতে পরিণত হওয়ায় এতে তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১৮ ফেব্রুয়ারি ( মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পাঁচ জেলার ১১টি পয়েন্টে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিস্তাপাড়ের সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সংহতি জানাতে তিস্তাপাড়ে এসেছেন এবং আসবেন।

তিস্তার পানি বণ্টন ও নদীর প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্বঘোষিত দু’দিনের কর্মসূচি সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। ‘জাগো বাহে-তিস্তা বাঁচাও’ শ্লোগান নিয়ে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বিএনপি ও তার মিত্ররা।
দিনরাতসহ টানা ৪৮ ঘণ্টা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে । তিস্তা চুক্তিসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে এই কর্মসূচি। লালমনিরহাট তিস্তা রেলসেতু-সংলগ্ন এলাকায় সোমবার কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ছাড়াও দেশের উত্তরের পাঁচ জেলা- লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম,গাইবান্ধা, নিলফামারীর এগারো স্থানে দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দলের নেতা- কর্মীরা অংশ করেছেন।

জানা গেছে, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা অভিমুখে পদযাত্রা এবং নদীর দু’তীরে ২৩০ কিলোমিটারজুড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ কমিটি। ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও’ স্লোগানে তিস্তা নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমিনার, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
পদযাত্রার বিভিন্ন স্পটগুলোতে পৃথক পৃথকভাবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং গণসংহতি আন্দোলন প্রধান সমন্নয়ক জোনায়েদ সাকি।
তিস্তা রক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব দুলু জানান, ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী ওই কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গজুড়ে বিশাল গণজমায়েতের আয়োজন হয়েছে। এতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, নদী গবেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা যোগ দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদকীয়

সম্পাদক ও প্রকাশক