মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ হেলথ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমম্বয় পরিষদ দ্বারা ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সারাদেশে স্বাস্থ্য সহকারীরা সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন প্রাঙ্গণে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ তিন ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেন।
বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অশোক কুমার দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুর রহমান সাদিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা সাংঘটনিক সম্পাদক সঞ্জিত কান্তি চৌধুরী, জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা ফরিদুল ইসলাম সুহেল, শহীদুল কবীর চৌধুরী, দিবাকর সরকার, মো মুজাহিদ মিয়া, পরিমল তালুকদার, জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে মো আমিরুল ইসলাম, শান্তিগঞ্জ মনিরুজ্জামান, ছাতক মো আমিরুল হক, দোয়ারাবাজার মইনুল ইসলাম, দিরাই সঞ্জীব চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সদর রাখু চৌধুরী, বিশ্বম্ভরপুর নুরুল আমিন, তাহিরপুর দেবরাজ পুরকায়স্থ, জামালগঞ্জ মো গোলাম কাওসার, শাল্লা হুমায়ুন কবির, ধর্মপাশা মো জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মানব শিশু জন্মের পর থেকে ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় জন্ম প্রতিষোধক হিসেবে তৃণমূল পর্যায় আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরাই টিকা প্রদান করে থাকি। আমাদের এ টিকা প্রদানের কাজটি সম্পর্ণ টেকনিকাল হলেও আমরা টেকনিক্যাল পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া আমরা দীর্ঘদিন থেকে টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবি করে এলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাস্তবায়ন না করায় স্বাস্থ্য সহকারীরা সরকারের অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মচারীদের থেকে পদমর্যাদাসহ চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তারা বলেন, আমাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেক্টরে সকল আন্তর্জাতিক অর্জন হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকার আমাদের শুধু আশার বাণীই দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। তাই আমাদের নিয়োগ সংশোধন শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বিজ্ঞান সংযোগ ১৪ তম গ্রেড প্রদান ও ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ সহ প্রস্তাবিত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্মবিরতি পালন করছি।
তারা আরো বলেন, আমরা এ কর্মবিরতি পালনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি ও আবেদন দিয়ে আমাদের দাবি ও কর্মসূচীর বিষয়ে অবগত করেছি। কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যদি আমাদের দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইপিআইসহ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন বন্ধের ঘোষণা দেন। আশা করছেন বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার বৈষম্যের শিকার দেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীদের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রস্তাবিত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করবেন।
দাবি সমূহ
১. নির্বাহী আদেশে নিয়োগ বিধি সংশোধন শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক/সমমান করে ১৪ গ্রেড প্রদান ২.ইন-সাভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা সহ বেতন স্কেল ১১ তম গ্রেডে উন্নীতকরণ ৩.পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরন ৪.পূর্বের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগ পেলেও কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের অভিজ্ঞতার আলোকে স্নাতক পাস স্কেলে আত্নীকরন করতে হবে ৫.বেতন স্কুলে উন্নীতকরণের পূর্বে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক,স্বাস্থ্য পরিদর্শক গন যত সংখ্যক টাইম স্কেল অথবা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত বা প্রাপ্য হয়েছেন তা পরবর্তী পুনঃ নিধারিত বেতন স্কেলের সাথে যোগ করতে হবে ৬.পূর্বে ইন-সাভিস ডিপ্লোমা এসআইটি কোর্স সম্পর্ণকারী স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক,স্বাস্থ্য পরিদর্শকদেরকে ডিপ্লোমাধারী সম্পন্ন হিসেবে গণ্য করে সরাসরি ১১ তম দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্যের নিরসনের লক্ষ্যে অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাবিত সুপারিশ সমূহের বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপনজারী এখন স্বাস্থ্য সহকারীদের সময়ের দাবি প্রস্তাবিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল কর্মসূচী চলমান থাকবে।