রাজধানীর উত্তরায় কাতার প্রবাসী এক দম্পতির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা শুধু হামলাই নয়, তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর থেকে ওই দম্পতি ও তাদের পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, পহেলা ডিসেম্বর সকালে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের প্রধান সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার মোহাম্মদ মশিউর রহমান খান (৪৪) ও তার স্ত্রী জেসমিন সুলতানা তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে কাতারে বসবাস করে আসছিলেন এবং কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার দিন সকালে স্বামী-স্ত্রী শপিংয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। পরে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের প্রধান সড়কের মাথায় পৌঁছালে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে এসে মুহূর্তের মধ্যেই দম্পতির ওপর হামলা শুরু করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোহাম্মদ মশিউর রহমান খান ও তার স্ত্রী জেসমিন সুলতানা গুরুতর আহত হন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার সময় তারা সড়কে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর ধারণা, পূর্ব বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

হামলার শিকার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উৎপাত চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। ফলে পরিবারটি বর্তমানে চরম অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, হামলাকারীদের ভয়ে তারা এখনও থানায় গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে হামলার শিকার দম্পতি ও তাদের পরিবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।