মো, সোহরাব আলি, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের সীমান্ত দিয়ে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে তারা শুন্যরেখার ওপারে ভারতীয় এলাকায় অবস্থান করছে। শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিন প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বিজিবি’র বড়বাড়ি ও বিএসএফ’র সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫-এর কাছাকাছি ভারতের প্রধান পাড়া এলাকায় বিএসএফর ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্প ১০ জন নারী ও পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের সহায়তায় বিএসএফ’র পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই ১০ জনকে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে আটকে রাখা হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে তাদের ঠেলে দেয় বিএসএফ। তবে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে বিজিবি। বর্তমানে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ওই সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার ও ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তারা ভারতীয় শুন্যরেখায় অবস্থান করছিল।
দুপুরে ৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইন করার চেষ্টা করেছে। আমরা তাদের এখনো শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরেই আটকে রেখেছি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আজ শনিবার ভারতের অভ্যন্তরে খোলা মাঠে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে ১০ নারী পুরুষ ও শিশুকে। তবে বাংলাদেশের বিজিবির টহল রত দল শক্ত অবস্থানে রয়েছে।