পঞ্চগড় প্রতিনিধি : এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়-এর তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী বিভিন্ন কৃষি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, মাঠ দিবস ও কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সব কার্যক্রমে গবেষক, কৃষি কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

দিনের শুরুতে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের আওতায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্রি ধান১০৩-এর বীজ বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে কৃষকদের মাঝে বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ করা হয়, যাতে কৃষকরা মানসম্মত বীজ নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব বীজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম, ড. কাজী শিরীন আখতার জাহান, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, ব্রি, গাজীপুর, ড. মোঃ সেলিম মিয়া, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, ব্রি, গাজীপুর এবং মোঃ মাসুদ রানা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান, ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়।

বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষকদের ধানের বিভিন্ন রোগ-বালাই ব্যবস্থাপনা, ব্রি ধান১০৩-এর বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা এবং মানসম্মত বীজ সংরক্ষণের আধুনিক কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন। তারা বলেন, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং সঠিকভাবে বীজ সংরক্ষণ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, ব্রি গাজীপুর কর্তৃক বাস্তবায়িত ব্রি ধান১১৪-এর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস। মাঠ দিবসে ব্রি ধান১১৪-এর ফলন মূল্যায়ন করা হয় এবং শস্য কর্তনের মাধ্যমে এর উৎপাদন সম্ভাবনা প্রদর্শন করা হয়। মূল্যায়নে দেখা যায়, ১৪ শতাংশ আর্দ্রতায় (ময়েশ্চার) ব্রি ধান১১৪-এর ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.৫৬ টন পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কার্যক্রম জেলার কৃষি উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।