তৌফিকুর রহমান তাহের : দেশের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নতুন নয়। তবে চিকিৎসা খাতে এ সব সমস্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ ও সুদের বোঝা মাথায় নিয়ে হাসপাতালে আসা অনেক রোগী ও স্বজনকে প্রতিনিয়ত নানামুখী ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি এক হাসপাতালের করিডোরে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি তার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রোগীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে টাকা ধার করতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সুদের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে অপমান ও সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

তার ভাষ্য, “চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এলেও এখানে এসে নতুন ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিভিন্ন ধাপে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।”

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের হাসপাতালেই সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কাগজে-কলমে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। অনেক রোগী জানান, নির্দিষ্ট সময়ে অপারেশনের আশ্বাস দেওয়া হলেও চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

এ দিকে হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনকে মেঝেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব মানুষ চিকিৎসার আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা পান না বলে অভিযোগ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চিকিৎসা খাতের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের অনেকেই স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, চিকিৎসা খাতকে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সেবার মান উন্নয়ন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা সংকট গভীর হবে।